ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে শপথ গ্রহণ করানোর দাবিতে আজকের মধ্যেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই লিগ্যাল নোটিশটি ইশরাক হোসেনের পক্ষে পাঠিয়েছেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী এহসানুর রহমান।
ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ২৭ এপ্রিল একটি গেজেট প্রকাশ করে। এর আগে, ২০২০ সালের নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের বিজয়কে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ইশরাককে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম। একই সঙ্গে আদালত ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের এই গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা একটি রিট হাইকোর্ট সরাসরি খারিজ করে দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধেই এখন আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। আপিল আবেদনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা জানিয়েছেন, হাইকোর্ট যে রিটটি খারিজ করেছেন, সেটির বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। গত ২২ মে হাইকোর্টের আদেশের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফজলে নূর তাপস পেয়েছিলেন সোয়া চার লাখ ভোট, আর বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন পেয়েছিলেন প্রায় দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোট। নির্বাচনের পর ২ ফেব্রুয়ারি ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং পরে শপথ নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব পালন শুরু করেন তাপস।
তবে ওই নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে একই বছরের ৩ মার্চ আদালতে মামলা করেন ইশরাক। প্রায় তিন বছর পর গত মার্চে সেই মামলার রায়ে তাপসের বিজয় বাতিল করে ইশরাককে বৈধভাবে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হয়।
এরই মধ্যে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়া, যিনি এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বর্তমানে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানো নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। হাইকোর্টের রায় ও আপিল বিভাগের শুনানির ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী ইসির গেজেট জারি হলেও এখনও পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়নি। শপথ গ্রহণের দাবিতে আজকের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো এই প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

