সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের তিন বছরের সাজা নিয়ে করা আপিলের রায়ের জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।
রোববার (২৬ মে) শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করে আদেশ দেন।
এ মামলার পটভূমি ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, যখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজধানীর কাফরুল থানায় তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগে বলা হয়, তারা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. আছাদুজ্জামান রায় দেন। রায়ে তারেক রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তিন বছর এবং ২৭(১) ধারায় ছয় বছরসহ মোট নয় বছরের কারাদণ্ড এবং তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে ২৭(১) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।
পরে সরকারের নির্বাহী আদেশে জুবাইদা রহমানের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ডা. জুবাইদা রহমান তার স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর চলতি বছরের ৬ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং রাজধানীর গুলশানে শাশুড়ি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এরপর ১৩ মে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে ৫৮৭ দিন দেরি হওয়ায় তিনি দয়া প্রার্থনা করে বিলম্ব মার্জনার আবেদন জানান। হাইকোর্ট বিলম্ব মঞ্জুর করে তাকে আপিলের সুযোগ দেন।
১৪ মে হাইকোর্ট ডা. জুবাইদা রহমানের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে। একইসঙ্গে জরিমানার আদেশ স্থগিত করে তাকে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন প্রদান করা হয়। সেদিন তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া।
সবশেষে, হাইকোর্ট মামলার আপিলের চূড়ান্ত রায়ের জন্য ২৯ মে, বুধবার দিন নির্ধারণ করেছে, যা ডা. জুবাইদা রহমানের রাজনৈতিক ও আইনগত অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

