একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে তাকে খালাস দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
এর আগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। মামলায় অভিযোগ ছিল, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আজহার রংপুরে আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নির্যাতন, গণহত্যা এবং ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহারুল ইসলাম। শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে এবং ২০২০ সালের ১৫ মার্চ এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়।
তবে সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেন তিনি। দীর্ঘ শুনানি শেষে, ২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ পুনরায় আপিল শুনানির অনুমতি দেয়, যা ছিল এ ধরণের মামলায় প্রথম। অর্থাৎ, এটি ছিল প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, যেটি রিভিউ পর্যায়ে গিয়ে পুনরায় আপিল শুনানির সুযোগ পেয়েছে।
আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা ছিল ছয়টি অভিযোগ নিয়ে, যার মধ্যে কয়েকটি গণহত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে সর্বোচ্চ আদালত সকল অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন। এর ফলে তিনি মুক্তি পাওয়ার আইনি পথ উন্মুক্ত করলেন, যদিও এখনও তার মুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বাকি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মগবাজারে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে আজহারুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন।
এই রায় দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে দেখেন। আবার অনেকের মতে, এ রায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং পুনর্বিবেচনার সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত।

