জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিচ্যুত ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পূর্ণ সিনিয়রিটি ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আদালতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই রায়ে ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের এক আদেশ অনুযায়ী চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন পর আইনি স্বীকৃতি ও ন্যায্যতা পেলেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁদের চাকরির মেয়াদে কোনো ছেদ পড়বে না এবং পূর্বের যোগদানের তারিখ অনুযায়ী তাঁরা পূর্ণ সিনিয়রিটি লাভ করবেন। পাশাপাশি চাকরি পুনর্বহালের পর তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী সব আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা পাবেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন চাকরিচ্যুত কর্মচারী। তাঁরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, “২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় আমরা নিপীড়নের শিকার হয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়ে আমাদের চাকরি হারাতে হয়েছিল। এখন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘ দিনের অপেক্ষা ও ভোগান্তির অবসান হলো। আমরা অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্ট।”
এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলেন, রায়ের ফলে একটি বড় আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি হলো এবং চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত হওয়া শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল। তাঁরা আরও আশা প্রকাশ করেন, রায় বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ৯৮৮ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় আইনি লড়াইয়ের পর এবার আপিল বিভাগ থেকে তাঁরা পেয়েছেন পূর্ণ প্রতিকার।
সুপ্রিম কোর্টের এ রায় শুধু চাকরিতে পুনর্বহালের দিক থেকেই নয় বরং দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

