ঢাকার রূপনগরে মর্মান্তিক একটি ঘটনা ঘটে গেছে—সিলিং ফ্যান পরিষ্কার করা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে নিজের মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। নিহত রাশিদা খাতুন (৪৯) ছিলেন একজন কর্মজীবী নারী, আর হত্যাকারী তার একমাত্র সন্তান, রেজোয়ান আহম্মেদ (২৫)।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যায়। এদিন দুপুরে রাশিদা খাতুন অফিসে যান এবং বাদী মনিরুজ্জামান (রেজোয়ানের আত্মীয় ও মামলার দায়েরকারী) ব্যবসায়িক কাজে বাইরে চলে যান। সন্ধ্যায় যখন তিনি বাড়ি ফেরেন, তখন দেখতে পান বাসার ড্রয়িং রুম ও বাথরুমের দরজায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে। ঘরের ভেতরে ঢুকে রাশিদাকে মৃত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। আর পাশের রুমে থাকা রেজোয়ানের দুই হাতে আচড় ও কাটার দাগ ছিল।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রেজোয়ান স্বীকার করে যে, সিলিং ফ্যান পরিষ্কার করার বিষয় নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই ঝগড়ার একপর্যায়ে রেজোয়ান উত্তেজিত হয়ে রান্নাঘর থেকে ধারালো বটি এনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
রেজোয়ান বর্তমানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি একজন শিক্ষানবিশ হিসেবেও কাজ করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রেজোয়ানকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালতের কাছে রেজোয়ান নিজের মাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন এবং তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহেদ হোসেন। জবানবন্দি রেকর্ডের পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাশিদা খাতুন রূপনগরের মিল্ক ভিটা সমবায় সমিতির সুপারভাইজার পদে চাকরি করতেন। তিনি একজন দায়িত্বশীল কর্মজীবী নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

