প্রভাবশালী রাজনীতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান, মিল্কভিটার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু এবং গাজীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলমসহ মোট ১০ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে), দুদকের করা চারটি পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, তদন্ত চলাকালে এসব ব্যক্তির দেশ ছাড়ার সুযোগ থাকলে তা প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। তাই প্রাথমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবেই এই নিষেধাজ্ঞা।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠজন। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমানের স্ত্রী চিকিৎসক মির্জা নাহিদা হোসেন, গাজীপুরের সাবেক এসপির স্ত্রী জিনিয়া ফারজানা, তাদের দুই কন্যা কাজী আরিয়া বিনতে শফিক ও কাজী আনুষা বিনতে শফিক। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রীর এপিএস আনম আহমাদুল বাশার এবং তার স্ত্রী হাকিমুন নাহার। মিল্কভিটার কর্মকর্তা শামসুল আরেফিনকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে জানানো হয়, সাবেক মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পেছনে মানিলন্ডারিংয়ের সংযোগ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কমিশন। তদন্ত যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্যই বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মিল্কভিটার সাবেক চেয়ারম্যান নাদির হোসেন লিপু ও কর্মকর্তা শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, মিল্কভিটার বিভিন্ন প্রকল্পে ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। তদন্ত সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য তাদের বিদেশ যাত্রা বন্ধ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রও ব্লক করার দাবি জানিয়েছে দুদক।
দুর্নীতির জালে ঘেরা এসব চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এখন নজরদারিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ার এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আরও জোরালো হচ্ছে। তবে এই তদন্ত কতদূর যায় এবং শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের আইনের মুখোমুখি করা যায় কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

