সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাবিবা বেনু’র বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অর্থ-পাচারসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি। এই প্রেক্ষাপটে তাঁদের দেশের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
দুদকের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইকবাল হোসেন সবুজ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তা বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুদক ইতোমধ্যে তাঁদের ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে। বিদেশে তাদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সম্পদ রয়েছে কিনা, তাও যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে দুদকের একটি বিশেষ দল।
এ বিষয়ে দুদকের পরিচালক (অনুসন্ধান) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই তাঁদের বিদেশগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, ইকবাল হোসেন সবুজ গাজীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিচিতির আড়ালে কোনো ব্যক্তি যদি দুর্নীতিতে জড়িত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন অবস্থান নিয়েছে দুদক।
জনগণের আস্থা অর্জন ও দেশের সম্পদের সুরক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ধরনের পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দুদকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, কোনো কোনো মহল থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য আসছে। তবে দুদক বলছে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং তদন্তে সত্য উদঘাটিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

