চট্টগ্রাম নগরীতে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর ইউনিফর্ম তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একটি গার্মেন্টস কারখানার মালিক মতিউর রহমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম খলিল এই আদেশ দেন। শুনানিতে পুলিশ মতিউরের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া মতিউর রহমান চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার ডিটি রোডে অবস্থিত নুর ফ্যাশন অ্যান্ড গার্মেন্টসের মালিক।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় মতিউরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২৭ মে রাতে পাহাড়তলী থানার ডিটি রোডের ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৫ হাজার ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জব্দ করা পোশাকগুলো কেএনএফ-এর জন্য তৈরি করা হচ্ছিল।
এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, মহালাসিন মারমা নামের এক ব্যক্তি ৫০ লাখ টাকার চুক্তিতে ইউনিফর্ম তৈরির অর্ডার দেন। তিনি কেএনএফ সদস্য বলে জানা গেছে।
এর একদিন আগে, ২৬ মে রাতে নগরের অক্সিজেন নয়ারহাট এলাকার আরেকটি গার্মেন্টসে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে থেকে ১১ হাজার ৭৮৫টি ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়।
আরও আগে, ১৭ মে রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার নয়ারহাট এলাকায় রিংভো অ্যাপারেলস নামে একটি কারখানায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ হাজার ৩০০টি সন্দেহজনক পোশাক।
এই ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, দুই কোটি টাকার চুক্তিতে এই পোশাক তৈরির কাজ চলছিল।
পুলিশ জানায়, রিংভো অ্যাপারেলস কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দার। তারা অর্ডার সংগ্রহে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, সাহেদুল মূলত কারখানার মালিক। অন্য দুজন পোশাক তৈরির অর্ডার এনেছিলেন।
কেএনএফ মূলত বান্দরবানের রুমা ও থানছি উপজেলায় সক্রিয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, কেএনএফ-এর সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির যোগাযোগ রয়েছে।

