সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দায়মুক্তির জন্য করা আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হুমায়ুন কবির মঞ্জু এবং শামীমা দিপ্তি। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহাজাহান।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মামলাটিকে ‘আলোচিত ও সংবেদনশীল’ উল্লেখ করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল নৃশংস এবং পরিকল্পিত। তিনি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীর ফাঁসিসহ বিচারিক আদালতের দেওয়া সম্পূর্ণ রায় হাইকোর্টে বহালের আবেদন জানান।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গত ২১ এপ্রিল মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২৩ এপ্রিল থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়।
মামলার পটভূমিতে জানা যায়, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পর তিনি কয়েকজন তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণবিষয়ক তথ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। ওই রাতে চেকপোস্টে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার জেরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া সিনহা হত্যা এবং ঘটনার পর তথ্য গোপনের চেষ্টা করায় পুলিশের আরও তিন সদস্য এবং পুলিশের তিন সোর্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ঘটনাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। কারণ, এটি ছিল দায়িত্বশীল বাহিনীর বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ, যা গোটা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
মামলার মোট ১৫ আসামির মধ্যে বাকি চার পুলিশ সদস্য এবং তিনজন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। পরবর্তীতে দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা নিশ্চিত করতে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয় এবং একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগার থেকে আপিল করেন।
আজকের রায়ে এই আলোচিত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

