সোমবার, ২ জুন, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে দেশের বিচার বিভাগে একটি ব্যাপক রদবদলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিন পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব (প্রশাসন-১) এ. এফ. এস. গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বিচারক ও কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জেলা ও দায়রা জজ এবং সমমানের ৩০ জন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ও সম পদমর্যাদার ৩৮ জন, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও সম মর্যাদার ২২ জন এবং সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজসহ মোট ১৬২ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তারা আগামী ৩ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলে দায়িত্বভার অর্পণ করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধান কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই রদবদল জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জারিকৃত আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ১৩ জন বিচারককে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ অনুযায়ী, তাদের সিনিয়র সহকারী জজ থেকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তাদের বেতনস্কেল নির্ধারিত হয়েছে তৃতীয় গ্রেডের ৫৪,৩৭০ থেকে ৭৪,৪৬০ টাকা পর্যন্ত।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিচারকদেরও ৩ জুনের মধ্যে বর্তমান দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন পদে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধান কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
তবে প্রজ্ঞাপনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত একজন বিচারক বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ছুটি শেষে তিনিও জেলা ও দায়রা জজ কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।
এই প্রজ্ঞাপনগুলোর মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা বিচারকার্যের গতিশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

