সোমবার (২ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ আদেশ দেন। মামলাগুলোর শুনানিতে অংশ নেওয়া নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আ. কাইউম খান জানান, গত বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় এই জামিন আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩ সেপ্টেম্বর মিনারুল হত্যা মামলা, ১৩ সেপ্টেম্বর মো. তুহিন হত্যা মামলা এবং ১১ সেপ্টেম্বর নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা অন্তর্ভুক্ত।
তবে আইভীর পক্ষে আদালতে উপস্থিত থাকা আইনজীবী আওলাদ হোসেন দাবি করেন, এসব মামলার এজাহারে তার মক্কেলের নাম বা সংশ্লিষ্টতার কোনো উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, “তিনটি মামলার কোনোটিতেই ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা তার সম্পৃক্ততার বর্ণনা নেই।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়ন জানান, এসব মামলায় আইভীকে ‘হুকুমদাতা আসামি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তিনটি মামলার মধ্যে একটি হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়ার পর তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রসঙ্গত, গত ৯ মে শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে ডা. আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২৭ মে মিনারুল হত্যা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে আবারও আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এই তিন মামলার জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় সাবেক মেয়র আইভীর কারামুক্তি আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

