মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ মিশুকসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে ৬৪৫ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
মামলায় তানভীর মিশুক ছাড়াও অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তারা হলেন—নগদের নির্বাহী পরিচালক মো. সাফায়েত আলম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ও নমিনি পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল হক, সিনিয়র ম্যানেজার মারুফুল ইসলাম ঝলক, চিফ টেকনোলজি অফিসার মো. আবু রায়হান, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার আফজাল আহমেদ, হেড অব ফাইন্যান্স মো. রাকিবুল ইসলাম, চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব উদ্দিন চৌধুরী এবং হেড অব বিজনেস ইন্টেলিজেন্স গোলাম মর্তুজা চৌধুরী।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ২০২১ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা হিসাবপত্রে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন এবং ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে ট্রাস্টকাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে প্রকৃত কাগুজে মুদ্রা বা ফিজিক্যাল মানির চেয়ে ৬৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ৭৫৮ টাকা বেশি ই-মানি ইস্যু করেন। এই অতিরিক্ত ই-মানি অনুমোদনহীন ৪১টি ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে রিফান্ড দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নগদ লিমিটেডের চিফ টেকনোলজি অফিসার মো. আবু রায়হান, হেড অব ফাইন্যান্স মো. রাকিবুল ইসলাম, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার আফজাল আহমেদ, চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব উদ্দিন চৌধুরী এবং হেড অব বিজনেস ইন্টেলিজেন্স গোলাম মর্তুজা চৌধুরী প্রোডাকশন বা লাইভ সিস্টেমে ওই ৪১টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরকে যুক্ত করেন। এরপর প্রোডাকশন/লাইভ ডাটাবেজ থেকে ডেটা সংগ্রহ করে তা বিআই পোর্টাল এবং বিপিও পোর্টালের ডাটাবেজে সংযুক্ত করে বিভিন্ন কাস্টমাইজড রিপোর্ট তৈরি ও উপস্থাপনের মাধ্যমে এই আর্থিক অনিয়ম ঘটান।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭ক এবং ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ‘নগদ’ লিমিটেডের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামান দিদারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুদকের এ মামলা দেশের মোবাইল আর্থিক খাতে নজরকাড়া একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে আরও শক্তিশালী করার প্রেক্ষাপটে এ মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

