নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চকগোয়াশ গ্রামে একটি কিশোরী বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতায়। সোমবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায় দেওয়া হয়নি) দিনভর বিয়ের প্রস্তুতি চললেও শেষ পর্যন্ত তা বন্ধ হয়ে যায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের শাকিল আলীর মেয়ে সুমাইয়া, যার বয়স ১৭ বছর ছয় মাস, তার বিয়ে ঠিক হয় একই গ্রামের মুসাউর রহমানের ছেলে শরাফাত আলী শাওনের (২৩) সঙ্গে। দুই পরিবারের সম্মতিতে সোমবার সকালে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে চলছিল খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তুতিও।
তবে বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে বিষয়টিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা। তাঁর নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আক্তার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল।
পরবর্তীতে কনের বয়স আইনগতভাবে বিয়ের জন্য নির্ধারিত ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায়, তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কনের বাবা শাকিল আলীর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়, যাতে তিনি মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত তার বিয়ে দেবেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হা-মীম তাবাসসুম প্রভা ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে আছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে কিশোরী সুমাইয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে জানা গেছে। সমাজের সকলে যদি বাল্যবিবাহ রোধে সচেতন হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে বলে আশা করা যায়।

