মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলেসে বেআইনিভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য প্রশাসন। সোমবার, ৯ জুন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প সংবিধানের দশম সংশোধনী লঙ্ঘন করে এবং ফেডারেল ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন।
আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের পদে থেকে ট্রাম্প যেভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করেছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ও সংবিধান পরিপন্থী। এতে উল্লেখ করা হয় যে, প্রতিরক্ষা বিভাগের ‘অবৈধ পদক্ষেপ’ এবং প্রতিরক্ষাসচিবের নির্দেশনা থেকে রাজ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতেই গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এই মামলা করার উদ্যোগ নেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ক্যালিফোর্নিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি। আমরা আদালতের কাছে এই সেনা মোতায়েনকে বেআইনি ঘোষণা করার আহ্বান জানাব এবং ভবিষ্যতে বিক্ষোভ দমনে এ ধরনের মোতায়েনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাইব।” তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ডকে অবৈধভাবে ব্যবহারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি।”
ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, বিগত চারদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে ব্যাপক জনবিক্ষোভ চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য প্রশাসন আদালতে মামলা দায়ের করে।
এ বিষয়ে গভর্নর নিউসাম বলেন, “এটি একজন স্বৈরাচারীর কাজ—একজন গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টের নয়।” অপরদিকে, ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ‘বিদ্রোহী ও সহিংস জনতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান, তিনি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমারেখা এবং সংবিধানগত ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক বিতর্ক উত্থাপন করেছে, যার পরিণতি ভবিষ্যতে রাজ্য-ফেডারেল সম্পর্কের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

