Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Sat, Jan 17, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » প্রধান বিচারপতির এক বছর: বিচার বিভাগে সংস্কার কতটুকু সফল?
    আইন আদালত

    প্রধান বিচারপতির এক বছর: বিচার বিভাগে সংস্কার কতটুকু সফল?

    মনিরুজ্জামানAugust 17, 2025Updated:August 17, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১০ আগস্ট ফ্যাসিবাদের সহযোগী প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান পদত্যাগ করেন। তখন রাজপথ থেকে জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত অক্সফোর্ড ডিগ্রিধারী বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি করার দাবি ওঠে। ছাত্র-জনতার এই দাবির প্রেক্ষিতে রাতের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থেকে সরাসরি প্রধান বিচারপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সময়ের পরিক্রমায় বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে এক বছর পার করেছেন ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আইনাঙ্গন ও বিচার বিভাগের সচেতন মানুষরা হিসাব করতে শুরু করেছেন, এক বছরে কতটুকু সফল হয়েছেন তিনি।

    সুপ্রিমকোর্ট অঙ্গনের অনেকে বলছেন, অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রধান বিচারপতি দায়িত্বগ্রহণের পরই স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগের জন্য একটি ঐতিহাসিক রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত ছিল পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, আইন মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব বিলোপ, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রবর্তন, কলেজিয়াম পদ্ধতিতে বিচারপতি নিয়োগসহ একাধিক সংস্কারের সুপারিশ।

    রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য ছুটির দিন বা অবকাশকালীন সময়ে বিশ্রাম না নিয়ে প্রধান বিচারপতি দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটেছেন। সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে জনমত তৈরি করেছেন। দেশের বিচারকদের করণীয় তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি চালিয়ে রোডম্যাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।

    প্রধান বিচারপতির দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে এক বছরে রোডম্যাপের বড় অংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আপিল বিভাগে বহু ঐতিহাসিক মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট বিচার বিভাগকে এক বছরে ভঙ্গুর অবস্থার থেকে তুলে স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগের ভিত্তি স্থাপন করেছেন প্রধান বিচারপতি।

    ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের এক বছরের নেতৃত্বের মধ্যে অনেক সফলতা থাকলেও কিছু সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মামলাজট নিরসন এবং বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা দুর্নীতি প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল। সংশ্লিষ্টরা প্রধান বিচারপতিকে তার মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ে আদালতের দুর্নীতি রোধ এবং মামলাজট কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    কেউ কেউ বলছেন, এক বছরের সফলতা-ব্যর্থতা যদি মাপা হয়, তবে সফলতার পাল্লা অনেক ভারী থাকবে। বিচার বিভাগ সংস্কারে তার পদক্ষেপ এবং ভূমিকার কারণে তার দায়িত্বকাল ইতিহাসে স্বর্ণালী সময় হিসেবে চিহ্নিত হবে। এভাবেই তিনি ইতিহাসে স্থান পাবেন বিচার বিভাগ সংস্কারের মহানায়ক হিসেবে।

    প্রধান বিচারপতির এক বছরের কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঁঞা ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিগত এক বছরে ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদটিকে অর্থবহ এবং তাৎপর্যপূর্ণ করেছেন। তিনি তার ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। একনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে পরিশ্রম করেছেন। এর ফলে তিনি সফল হয়েছেন। তিনি বিচার বিভাগকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের মতে, প্রধান বিচারপতির ঘোষিত রোডম্যাপের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে।

    বিচার সংস্কারের রোডম্যাপ:

    ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ একটি বিচার সংস্কার রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এই ভাষণে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ‘মাসদার হোসেন মামলা’র রায় কার্যকর করার লক্ষ্যে পৃথক বিচার প্রশাসন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকনির্দেশনা দেন। রোডম্যাপে তিনি বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মেধার চর্চা বৃদ্ধি, উন্নত দেশের মতো নির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন এবং বিচার পরিষেবায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছেন, যা সুপ্রিম কোর্টের সেবা মানোন্নয়নে কার্যকর হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে প্রতি মাসে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের দপ্তর থেকে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি উপস্থাপন করেন। জেলা পর্যায়ের আদালতেও একই ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে এক বছরের মধ্যে বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    পেপারলেস হাইকোর্ট ও আইনি সহায়তায় নতুন উদ্যোগ:

    পেপারলেস হাইকোর্ট বেঞ্চ: প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচারসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বে হাইকোর্টের একটি কোম্পানি বেঞ্চে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন (পেপারলেস) বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

    সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেঞ্চের সব নথি অনলাইনে জমা দেওয়া যায়। পরে ২০ জুলাই আরেকটি কোম্পানি বেঞ্চেও পেপারলেস বিচার কার্যক্রম চালু হয়। প্রধান বিচারপতির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অন্যান্য বেঞ্চেও এই পদ্ধতি সম্প্রসারণ করা হবে।

    আইনি সহায়তার জন্য সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা: ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট একটি সার্কুলার জারি করে জানান, আদালতে উপস্থিত সব আসামিকে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে কোনো আসামি আইনজীবীর অভাবে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই জন্য নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যালে আসামির পক্ষে আইনজীবী না থাকলে লিগ্যাল এইড লইয়ার্স প্যানেল থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিতে হবে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়, নিযুক্ত আইনজীবী যেন বাধাহীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (ন্যাশনাল লিগাল এইড সার্ভিস অর্গানাইজেশন) দেশের সব জেলা লিগ্যাল এইড অফিসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

    আলাদা বিচার প্রশাসন সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগে সংস্কার:

    আলাদা বিচার প্রশাসন সচিবালয়: বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিচার প্রশাসন সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল একটি অধ্যাদেশের খসড়া, প্রস্তাবিত সচিবালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং ব্যবসা-বণ্টন ও পরিচালন বিধিমালায় সম্ভাব্য সংস্কারের বিস্তারিত।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমধ্যে অন্যতম। আলাদা সচিবালয় গঠিত হলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলা ও ছুটিসহ নানা ক্ষেত্রে বিদ্যমান দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের অবসান হবে। এতে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতায় আলাদা সচিবালয় গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

    বদলি ও পদায়ন নীতিমালা: প্রধান বিচারপতির ঘোষিত বিচার সংস্কার রোডম্যাপ অনুযায়ী, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়নে বৈষম্য দূর করতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিমালাটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ:

    ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগে একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উন্নত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতির বিশ্লেষণের পর একটি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করা হয়। উভয় বিভাগের বিচারপতিদের মতামত গ্রহণের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়।

    পরবর্তীতে “সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫” উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং আইন হিসেবে পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে “সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল” গঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।

    সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের আদালতে হেল্পলাইন ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্গঠন:

    সারা দেশে হেল্পলাইন: ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে সেবাগ্রহীতাদের জন্য একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় হেল্পলাইন চালু করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার পদমর্যাদার একজন বিচারিক কর্মকর্তা হেল্পলাইন পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।

    সকল নাগরিকের জন্য বিচারসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের ১৪ মে দেশের ৬৪ জেলা ও ৮ মেট্রোপলিটন এলাকায় হেল্পলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিটি জেলায় ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজদের সিমসহ মোবাইল ফোন সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে সেবা আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পারে।

    সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্গঠন: সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর ফলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বদলে সংসদের হাতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ সংশোধনীটি বাতিল ঘোষণা করলেও বিষয়টি আপিল বিভাগে পুনর্বিবেচনার জন্য বিচারাধীন ছিল।

    ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন। ফলে বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরায় কার্যকর হয়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই কাউন্সিল ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। এই ধারাবাহিকতায়, হাইকোর্টের তিনজন বিচারক ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করেন এবং তা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে আরও কিছু বিচারকের বিষয়ে কাউন্সিলের কার্যক্রম চলমান।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংস্কার ও জনসচেতনতা উদ্যোগ:

    আইসিটি সংস্কার: ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর সংস্কারকৃত মূল ভবন ও আদালত কক্ষের উদ্বোধন করেন। সংস্কারের ফলে ট্রাইব্যুনালের অবকাঠামো এখন আন্তর্জাতিক মানের। উদ্বোধনকালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আইসিটি-এর নতুন সংস্কারকৃত ভবন ও আদালত কক্ষ উদ্বোধন একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। এটি বিচার কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।

    সারা দেশে জনসচেতনতা কার্যক্রম: বিচার ব্যবস্থা দেশের জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য গঠিত। তাই জনগণ বিচার বিভাগ থেকে কী আশা করে এবং সেই প্রত্যাশা পূরণে বিচার বিভাগের সক্ষমতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, তা বোঝার জন্য প্রধান বিচারপতি ২০২৫ সালে ইউএনডিপির সহায়তায় দেশের সব বিভাগীয় শহরে স্টেকহোল্ডার সভার আয়োজন করেন। এই সভাগুলো প্রধান বিচারপতির ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য একটি ব্যবহারিক রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    পরিবেশবিষয়ক ও বিচার বিভাগের দক্ষতা: আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সেমিনার:

    পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার: ২০২৫ সালের ৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট ‘পরিবেশবিষয়ক ন্যায়বিচার রক্ষা: একটি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বিচারকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজন করে। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের ন্যাশনাল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জাস্টিস আন্তোনিও হারমান বেঞ্জামিন। সেমিনারে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচারকদের পরিবেশবিষয়ক ন্যায়বিচারে সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং দেশের জন্য টেকসই বিচার ব্যবস্থার একটি রূপরেখা তৈরি করা।

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা শীর্ষক জাতীয় সেমিনার: ২০২৫ সালের ২২ জুন একই ভেন্যুতে “বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা” শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সভাপতিত্ব করেন প্রধান বিচারপতি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।

    সেমিনারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী, আমন্ত্রিত অতিথি, জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, প্রধান বিচারিক হাকিম এবং দেশের বিভিন্ন জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। উভয় সেমিনারই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালত এবং চৌকি আদালতে কম্পিউটার সরবরাহ:

    ফৌজদারি ও দেওয়ানি আলাদা আদালত: প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয়ে একটি পত্র পাঠানো হয়। এতে দেশের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিচারিক কার্যক্রম আলাদা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগের কাঠামোতে পরিবর্তন এনে পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি করার অনুরোধ করা হয়।

    বর্তমানে নিম্ন আদালতগুলোতে একই বিচারক দেওয়ানি আপিল, রিভিশন, ফৌজদারি আপিল, রিভিশনসহ বিভিন্ন বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনা করেন। ফলে বিচারকদের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না। মামলার জট ও বিলম্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে দেওয়ানি মামলায়। এই প্রেক্ষাপটে পৃথক বিচারিক কর্তৃত্ব সহজতর করতে এবং মামলাজট নিরসনে আলাদা আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    চৌকি আদালত ও নিম্ন আদালতে কম্পিউটার সরবরাহ: বিচারপ্রার্থীদের সেবা নিশ্চিত করতে এবং নিম্ন আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রধান বিচারপতি দেশের বিভিন্ন চৌকি আদালত ও নিম্ন আদালতে কম্পিউটার সরবরাহের নির্দেশ দেন। ২০২৫ সালের ২ জুলাই ৪০টি চৌকি আদালতে মোট ৭১টি ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং বিভিন্ন জেলা আদালতে ৪০০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও দেশের ১২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে।

    পরিশেষে বলা যায়, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের এক বছরের কার্যক্রম শুধু বিচার বিভাগের কাঠামোই শক্ত করেনি, বরং দেশের ন্যায়বিচার ও জনগণের আস্থার ভিত্তিক সংস্কারেও নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে। পেপারলেস বেঞ্চ থেকে হেল্পলাইন, আলাদা সচিবালয় থেকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সেমিনার—প্রতিটি উদ্যোগই দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও নাগরিক-বান্ধব করে তুলেছে।

    একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও স্বাধীন বিচার বিভাগের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তার আসল দায়িত্ব ও নিষ্ঠা বিচার বিভাগের প্রতি। এক বছরে তিনি যে সংস্কার ও পরিবর্তন এনেছেন, তা ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে। ইতিহাস নিশ্চয়ই তাকে স্মরণ করবে—বিচার বিভাগকে মর্যাদা, শক্তি ও স্বচ্ছতার উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া এক নেতা হিসেবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    ইরানে মার্কিন হামলা কেন সহজ সমীকরণ নয়?

    January 17, 2026
    আন্তর্জাতিক

    আফগানিস্তানে তালেবান শীর্ষ নেতৃত্বে মতবিরোধের ইঙ্গিত

    January 17, 2026
    আন্তর্জাতিক

    যেভাবে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

    January 17, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি August 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত April 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি August 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.