ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আদালতে হাজির হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
আদালতে তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের আর্টিকেল ৩৩ অনুযায়ী যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল তা দেওয়া হয়নি। আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। থানায় জেলখানায় ফ্যানও ছিল না, সাবানও ছিল না। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আমরা ভিক্টিম।”
তিনি আরও দাবি করেন, “রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য মিথ্যা। আমাদের হেনস্তার প্রতিকার চাই। ক্ষতিপূরণের জন্য পাঁচ কোটি টাকা দাবি করছি। এবং এখনই জামিন চাই।”
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা এবং শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শামসুদ্দোহা সুমনও একই দাবি জানান।
অধ্যাপক কার্জন জানান, গতকাল ডিআরইউতে একটি প্রোগ্রামে তিনি আলোচক হিসেবে ছিলেন। প্রোগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন একদল সন্ত্রাসী ঢুকে তাঁদের তুলে দেয়। তিনি বলেন, “যারা অপরাধী তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
পরবর্তী সময়ে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক।
আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার সময় অধ্যাপক কার্জন সংবিধানের বই উঁচু করে সবাইকে দেখান এবং বলেন, “এই সংবিধান ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি। এটি রক্ষা করতে হবে।”
শুনানি শেষে অধ্যাপক কার্জনের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী সাংবাদিকদের বলেন, “গ্রেপ্তারের পর আসামিদের রাখা হয়েছে অমানবিক পরিবেশে। ফ্যান নেই, ধুলাবালি আছে। খারাপ আচরণ করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৩ আর্টিকেলের অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।”

