চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সুন্নি অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস র্যালি থেকে ফেরার পথে সুন্নি অনুসারীদের কয়েকটি বাসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পালাশ জানান, রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তপন কান্তি জানান, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৮০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অস্থিরতা ঠেকাতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন গত শুত্রবার ১০টা থেকে গতকাল শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী, হাটহাজারীর মীরেরহাট থেকে ইলেভেন মাইল সাবস্টেশন পর্যন্ত এবং উপজেলা গেট থেকে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত এলাকায় পাঁচজনের বেশি মানুষের সমাবেশ, মিছিল বা শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরক বা আগ্নেয়াস্ত্র বহনও নিষিদ্ধ।
এর আগে দিনেই, সহিংসতার সূত্রপাত ঘটানো ফেসবুক পোস্টের অভিযোগে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরিয়ান ইব্রাহিমকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জশনে জুলুসে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হাটহাজারী মাদ্রাসা মসজিদের সামনে অশ্লীল ভঙ্গির ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট অভিযোগ করেছে, হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জশনে জুলুস চলাকালে তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান আল্লামা এমএ মতিন ও মহাসচিব আল্লামা এসইউএম আব্দুস সামাদ হামলাকারীদের ‘উগ্র জঙ্গি’ আখ্যা দেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের মুসলমানরা যখন ১৫০০তম মিলাদুন্নবী পালন করছে, তখন একদল উগ্রপন্থী হাটহাজারীতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি হামলাকারীরা গরম পানি ঢেলেও আঘাত করেছে। তারা দাবি করেন, প্রকৃত মুসলমান এ ধরনের নৃশংসতা করতে পারে না। যারা মিলাদুন্নবীর বিরোধিতা করে তারা কেবল অশান্তি ছড়ায়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে।
১৪৪ ধারা কী?
দণ্ডবিধি ১৮৯৮ (সিআরপিসি) অনুযায়ী, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে এ ধারা জারি করতে পারেন। এ সময়ে বড় ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল বা শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ থাকে। আইন ভঙ্গ করলে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

