ধানমন্ডির ৬/১ ঠিকানায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদক সাবেক দুই কমিশনার ও সচিব পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। আজ দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিযোগের অনুসন্ধান দলের রুটিন কাজের অংশ হিসেবে এই জিজ্ঞাসাবাদ নেওয়া হচ্ছে।
তলবকৃতদের মধ্যে সাবেক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান, সাবেক কমিশনার জহরুল হক, সাবেক সচিব মো. ইউনুসুর রহমান ও সাবেক সচিব এম এ কাদেরকে ১৭ সেপ্টেম্বর ডাকা হয়েছে। আইডিআরএর সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম, সাবেক সচিব আকতারী মমতাজ, সাবেক সচিব মো. সিরাজুল হক খানকে ১৮ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, সাবেক সচিব মো. আনিছুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুককে ২১ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগ আছে। প্রকল্প অনুযায়ী ধানমন্ডির ৬৩ নম্বর প্লটে নির্মিত ১৪ তলা ভবনের ১৮টি ফ্ল্যাটের ৬০ শতাংশ সরকারি এবং ৪০ শতাংশ বেসরকারি কোটায় বরাদ্দ হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচনী অনিয়মে জড়িত সচিব পদমর্যাদার এই ১২ কর্মকর্তাকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
গত ৫ মে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করলে দুদক বিষয়টি অনুসন্ধানে নামে। ১২ মে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধানমন্ডি-৬ এর ৬৩ নম্বর প্লট মূলত সরকারি খাস জমি। বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। অভিযোগ আছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জমি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখানে ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়।
ভবনটিতে দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট এবং নিচতলাসহ দুই তলা গাড়ি পার্কিং রয়েছে। ডুপ্লেক্স দুটি বরাদ্দ পেয়েছেন দুদকের সাবেক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান ও জহরুল হক। বাকি ১০টি ফ্ল্যাট অন্যান্য সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ হয়। জুলাই মাসের শুরুতে এ বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।

