ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। গতকাল সোমবার প্রকাশিত আদালতের নথিতে জানানো হয়, ক্ষমতায় থাকার সময় তাঁর নির্দেশে পরিচালিত তথাকথিত ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এ অন্তত ৭৬ জনকে হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
৮০ বছর বয়সী দুতার্তে গত মার্চ থেকে নেদারল্যান্ডসের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি আছেন। ১১ মার্চ ২০২৫ তিনি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁকে আইসিসির তত্ত্বাবধানে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দুতার্তে গ্রেপ্তারকে সবসময় ‘অবৈধ’ বলে আসছেন। দুতার্তের শাসনামলে ফিলিপাইনে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে হাজারো সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী নিহত হয়েছিলেন।
গত জুলাই মাসে আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর মামে মান্দিয়ে নিয়াংয়ের সই করা অভিযোগপত্র জমা পড়ে। এতে বলা হয়, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কয়েক ডজন হত্যাকাণ্ডে দুতার্তের ব্যক্তিগত দায় রয়েছে। প্রথম অভিযোগটি তাঁর দাভাও শহরের মেয়র থাকাকালীন সময়ের। নথি অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯ জনকে হত্যায় তিনি ‘পরোক্ষ সহ–অপরাধী’ ছিলেন।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযোগ দুতার্তে প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ের। এর মধ্যে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে গুরুত্বপূর্ণ ১৪ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। আর শেষ অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নিম্নস্তরের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চালানো ‘ক্লিয়ারেন্স’ অভিযানে ৪৩ জন নিহত হন। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ড পুলিশ ও অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে সংঘটিত হয়েছিল।

