জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তাঁর দেওয়া সেই নির্দেশনার একটি অডিও শোনানো হয়েছে। অডিওটি দুবার বাজানো হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আজ ৫০তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মো. কামরুল হাসান। তিনি ডিএমপির ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত। জবানবন্দি দেওয়ার শেষ পর্যায়ে কামরুল হাসান ট্রাইব্যুনালে একটি অডিও রেকর্ড জমা দেন। তিনি জানান, সেই অডিওতে সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, তিনি নিজে এবং অন্যদের কণ্ঠস্বর রয়েছে।
সাক্ষ্যে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৭ জুলাই তাঁর ডিউটি ছিল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, যার সাংকেতিক কল সাইন ছিল “ভিক্টর মাইক ওয়ান”, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের জন্য সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দেন। এমনকি চায়নিজ রাইফেল দিয়ে গুলি করারও নির্দেশ দেন। এরপর তিনি ও তাঁর দল ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটে নির্দেশটি পৌঁছে দেন।
সাক্ষ্য শেষে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক সাংবাদিক জানতে চান, অডিও বার্তায় সাবেক কমিশনার বলেছেন জনগণ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় হাঁটু গেড়ে কোমরের নিচে গুলি করতে। বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ কীভাবে দেখছে? জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, “এটা যুক্তিতর্কের বিষয়। গত বছরের ১৭ জুলাই সরকারি ছুটি ছিল। সেদিন কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল না। তাহলে কেন জনগণের ওপর গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হলো? কোমরের নিচে, না ওপরে—এটা আসল বিষয় নয়।”
আরেক সাংবাদিক জানতে চান, সাক্ষী বলেছেন ডিএমপি কমিশনার চায়নিজ রাইফেল ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু অডিওতে তা শোনা যায়নি। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, “চায়নিজ রাইফেলের কথা সাক্ষী বলেছেন কি বলেননি, সেটা যুক্তিতর্কের বিষয়। আদালতে যখন যুক্তি উপস্থাপন হবে, তখন এই প্রশ্নের মোকাবিলা করা হবে।”

