আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের জেরেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে গত সোমবার রাতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রমই এতে স্থবির হয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে এবার পুরো প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করলে তা হবে নজিরবিহীন ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে আদালত জরুরি বৈঠক করেছে এবং কূটনৈতিক মহলেও আলোচনার ঝড় উঠেছে।
বিষয়টির সঙ্গে জড়িত ছয়টি সূত্র জানিয়েছে, “এনটিটি স্যাংশন” নামে পুরো আদালতকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আদালতকে টার্গেট করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি জানাননি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, আদালত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাগরিকদের ওপর “অযৌক্তিক এখতিয়ার” প্রয়োগ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কাঠামোগত পরিবর্তন না এলে ওয়াশিংটন নিজেদের সেনাসদস্য ও স্বার্থ রক্ষায় আরও ব্যবস্থা নেবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আদালতের কর্মীদের বেতন দেওয়া, ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার বা সফটওয়্যার চালানোতেও বাধা আসতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে কর্মীদের ২০২৫ সালের বাকি মাসগুলোর বেতন আগাম পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যাংকিং সেবা ও সফটওয়্যার সরবরাহকারীর খোঁজ চলছে।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আইসিসি এরই মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট ও হামাসের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। এর আগে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড তদন্ত নিয়েও আদালতের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আদালতের ১২৫ সদস্যদেশের কয়েকটি আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা ঠেকানোর চেষ্টা করবে। তবে সব ইঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এবার পদক্ষেপ আরও কঠোর করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটিকে “জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি” এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “আইনের অপব্যবহারের হাতিয়ার” বলে উল্লেখ করেছেন। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আদালত গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রাখে। তবে শর্ত হলো, অপরাধটি সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে বা নাগরিক দ্বারা সংঘটিত হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আদালতের সদস্য নয়। তবু আদালত ফিলিস্তিনকে সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের বিচারিক এখতিয়ার দাবি করছে। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েই প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তিনি নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছিলেন। বর্তমানে যৌন হয়রানির অভিযোগে তিনি তদন্তের মুখে ছুটিতে আছেন, যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

