মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলাকে যুদ্ধাপরাধ ও রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এম২৩ বিদ্রোহীদের সহায়তার অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতেই দেশটির সামরিক আদালত রায় ঘোষণা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানায়।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, কাবিলাকে রাষ্ট্রদ্রোহ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে হত্যা, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন এবং বিদ্রোহে উসকানি দেওয়া রয়েছে। কাবিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পূর্ব কঙ্গোর ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সহায়তা করেছেন। তবে আদালতে হাজির না হয়ে কাবিলা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি আদালতকে “দমননীতির হাতিয়ার” আখ্যা দিয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান অজানা।
জোসেফ কাবিলা ২০০১ সালে বাবা লরঁ কাবিলার হত্যার পর ক্ষমতায় আসেন। ১৮ বছর দেশ শাসন করার পর ২০১৯ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স সিসেকেদিকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। পরে সম্পর্কের অবনতি হলে ২০২৩ সালে কাবিলা স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান। গত এপ্রিলে কাবিলা ঘোষণা দেন, তিনি পূর্বাঞ্চলের চলমান সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখতে চান। এরপর চলতি বছরের মে মাসে এম২৩-নিয়ন্ত্রিত গোমা শহরে উপস্থিত হন।
প্রেসিডেন্ট সিসেকেদি অভিযোগ করেন, কাবিলাই এম২৩ বিদ্রোহীদের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী। এরপর সিনেট তার সাংবিধানিক দায়মুক্তি প্রত্যাহার করে এবং বিচার প্রক্রিয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।
এই বছরের শুরু থেকে এম২৩ বিদ্রোহীরা খনিজসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চরের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। দখলকৃত এলাকায় রয়েছে গোমা, বুকাভু শহর এবং দুটি বিমানবন্দর। জাতিসংঘসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ অভিযোগ করেছে, প্রতিবেশী রুয়ান্ডা এম২৩-কে সমর্থন করছে এবং সেনা কঙ্গোতে পাঠিয়েছে। তবে কিগালি অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, তারা শুধু সংঘাতের প্রভাব নিজেদের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও সহিংসতা এখনও থামেনি। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে রক্তপাত অব্যাহত রয়েছে।

