দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৮৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে জখম করার বা জখম করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় বা কোনো সম্পত্তি অর্পণে বাধ্য করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
ধারা ৩৮৫: জখমের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ:
ধারা ৩৮৫ মূলত এমন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত যেখানে কেউ অন্যের উপর জখমের ভয় সৃষ্টি করে, তাকে চাঁদাবাজি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য বাধ্য করে। সহজভাবে বলা যায়, এটি ‘বলপ্রয়োগ বা ভয় দেখিয়ে সম্পদ আদায়’ সম্পর্কিত একটি বিধান।
যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে জখম করার বা কোনো ক্ষতি করার হুমকি দেখায় এবং সেই ভয়ের কারণে অন্য ব্যক্তি তাকে অর্থ, সম্পত্তি বা কোনো মূল্যবান জিনিস দিতে বাধ্য হয়, তাহলে এটি ৩৮৫ ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এখানে মূল বিষয় হলো—অপরাধী ব্যক্তি বল বা ভয়ের মাধ্যমে অন্যকে নিজের ইচ্ছামতো কিছু দিতে প্ররোচিত করে।
ধারাটি সাধারণত চাঁদাবাজি, মোটা অংকের ঋণ আদায়, ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধে হুমকি প্রদর্শন এবং জবরদস্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি সমাজে আর্থিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শাস্তি: ৩৮৫ ধারার অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারে। এছাড়াও আদালত তার ওপর জরিমানা আরোপ করতে পারে। প্রয়োজনে উভয় দণ্ড—কারাদণ্ড ও জরিমানা—একসাথে দেওয়াও সম্ভব। এই শাস্তি অপরাধীকে প্রতিরোধমূলক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে চাঁদাবাজি ও জখমের ভয় দেখানোর মতো আচরণ দমন করার উদ্দেশ্য রাখে।
ধারা ৩৮৫ মূলত ভয় বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি আদায়কে অপরাধ হিসেবে শনাক্ত করে। এটি ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, চাঁদাবাজি রোধ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধীদের শাস্তি কারাদণ্ড এবং জরিমানা উভয়ের মাধ্যমে সামাজিক ও আইনগত সতর্কতা প্রদান করে।

