জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া ১৫৬ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হওয়ায় এবার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা অর্থঋণ আদালত-৫ এর বিচারক মুজাহিদুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সময়মতো আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। তাদের গাফিলতির কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করা সম্ভব হয়নি।
আদেশে বলা হয়, অর্থঋণ আদালত আইনের ৪৬ ধারায় নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে মামলা দায়ের করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এ অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক। আদালত আগামী ৯০ দিনের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অগ্রগতি সরকার ও আদালতকে জানাতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি এখনো হাতে পাইনি। কপি পাওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের হানজালা টেক্সটাইল পার্ক লিমিটেডকে প্রকল্প ঋণ দেয় জনতা ব্যাংকের জনতা ভবন করপোরেট শাখা। তখন আট বছরের জন্য ৪৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার প্রকল্প ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে আরও সাড়ে ৩ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ ও ২০ লাখ ডলারের এলসি সীমা দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের কোনো কিস্তি পরিশোধ করেনি। এলসির দায়ও শোধ না করায় ২০১৮ সালে ব্যাংক ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার নতুন ফোর্স ঋণ সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর এবং তাঁর স্ত্রী আরিফা আকবর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ১১ বছরে গ্রাহক মাত্র ১ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে—যা মূল ঋণের ২ শতাংশেরও কম। ২০১৯ সালে ঋণটি খেলাপিতে পরিণত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ বিবেচনায় তা পুনঃতপশিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় দফায় পুনঃতপশিল করা হলেও ডাউন পেমেন্টের টাকা জমা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এত সময় পার হলেও ব্যাংক চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এসে অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে।
অর্থঋণ আদালত আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী, ঋণ আদায় না হলে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। কিন্তু জনতা ব্যাংক সে সময়সীমা পার করেছে। এ কারণে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আনতে আদালত বন্ধকি সম্পত্তিগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এসব সম্পত্তির হালনাগাদ মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং দৃশ্যমান স্থানে চারটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে স্থিরচিত্র আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

