ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো বিচারক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, সেটি হবে তার বিচারিক জীবনের শেষ দিন।
গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি এই নির্দেশ দেন। তিনি আদালতের পরিবেশ, দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের গুরুত্ব, সততা বজায় রাখা এবং বহিরাগতদের কোর্টে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিচারকদের নির্দেশ দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে। কোনো বিচারক বিচার আসনে বসে অনিয়ম বা দুর্নীতিকে আশ্রয় দিতে পারবে না। সব বিচারককে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা বা বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাকে শাস্তি দিতে হবে।
রায় প্রদানের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুনানি শেষের তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করতে হবে। বিলম্ব হলে মামলার নথি পুনঃপর্যালোচনা করতে হয়, যা সময়ের অপচয় এবং বিচারপ্রার্থীর জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করে। তাই রায় বা আদেশ প্রদানে কোনো বিলম্ব কাম্য নয়। আদালতের কর্মঘণ্টা পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষের বাইরে কেউ এজলাসে প্রবেশ করতে পারবে না। কোর্ট প্রাঙ্গণকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। হকার, বাদাম, চা বা ডাব বিক্রেতা আদালতের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া আইনজীবীদের অবশ্যই ড্রেসকোড মেনে চলতে হবে।
অধস্তন আদালতের অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কর্মঘণ্টা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা। দুপুরে খাবার ও নামাজের বিরতি রয়েছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তাকে পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে শপথগ্রহণ করান। শপথগ্রহণের পরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।

