বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট হিসেবে জারি করেছে সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ গতকাল (৭ জানুয়ারি) এই অধ্যাদেশ প্রকাশ করেছে।
এ নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ প্রজাতির বা বন অধিদপ্তরের ঘোষিত বিপদাপন্ন গাছ কেটে ফেললে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া, ধাতব বস্তু বা পেরেক ব্যবহার করে গাছের ক্ষতি করলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত চাইলে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের নির্দেশও দিতে পারবে।
অনুমতি নিয়ে ভুল নিয়মে গাছ কাটার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা থাকবে। বনভূমি জেলা প্রশাসক ইজারা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে, সরকারি বন, সামাজিক বন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি সম্পত্তিতে গাছ কাটা হলে বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমতি বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগত জমিতে এমন গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমতি তালিকাভুক্ত হলে কর্তন সম্ভব। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে – যেমন রোগাক্রান্ত, মৃত, ঝড়ে ভেঙে পড়া বা জীবন-সম্পদের ঝুঁকি তৈরি করা গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে না। গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ বাণিজ্যিক প্রজাতির গাছও অনুমতি ছাড়াই কাটা যাবে।
পাহাড়ি চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ‘চট্টগ্রাম হিলট্র্যাকস রেগুলেশন, ১৯৯০’ অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া চলবে, এবং কাটা গাছের সমপরিমাণ চারা রোপণ বাধ্যতামূলক।
নতুন অধ্যাদেশে বনভূমির রেকর্ড ও জমি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। সব বনভূমি এখন বন বিভাগের নামে রেকর্ড করতে হবে। জেলা প্রশাসকের নামে থাকা রক্ষিত ও অর্জিত বন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও বন বিভাগে চলে এসেছে। বনভূমি বন্দোবস্ত দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে এবং সীমানা নির্ধারণ ও জরিপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জট দূর হয়।
বনভূমি বিনিময় ও অধিগ্রহণেও নতুন শর্ত যোগ হয়েছে। কোনো শিল্প এলাকার ভেতরে এক একরের কম বন থাকলে জনস্বার্থ বিবেচনায় বিনিময় করা যেতে পারে, তবে দ্বিগুণ পরিমাণ বনসংলগ্ন জমি বন বিভাগকে দিতে হবে, যা সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নতুন অধ্যাদেশ বনসম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পরিবেশগত নিরাপত্তা জোরদার হবে।”
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, “এ অধ্যাদেশ বন বিভাগের জন্য গণপরিসর ও ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গাছ রক্ষার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।”
আইইউসিএনের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশতিয়াক আহমদ বলেন, “খসড়া তৈরির প্রায় ১৪ বছর পর সরকার এটি বাস্তবায়ন করেছে। বনভূমি ইজারা দেওয়ার প্রবণতা এবার বন্ধ হবে।”

