অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন ও ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে সুপারিশ দেওয়ার জন্য সরকার গঠিত টাস্কফোর্স কেন অবৈধ, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রুলে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গত বছরের ২৪ জুলাই একটি স্মারকের মাধ্যমে ১৮ সদস্যের যে টাস্কফোর্স গঠন করেছে, সেখানে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ এবং উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে ক্যাবিনেট ডিভিশন থেকে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর জারি করা নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে।
হাইকোর্ট আরও জানতে চেয়েছেন, টাস্কফোর্সে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে কেন ওই স্মারক এবং এর ভিত্তিতে নেওয়া সব কার্যক্রমকে আইনগত কার্যকারিতাবিহীন ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রুলে আরও বলা হয়েছে, কেন আদালত বিবাদীদের নির্দেশ দেবেন না যে, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৩ এবং উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুসরণ করে টাস্কফোর্সে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
বাংলাদেশ ইউনানী মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এ কে মাহবুবুর রহমানের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট এ কে এম জাগলুল হায়দার আহমেদ আফ্রিক। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও মোহাম্মদ আব্দুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা।
আদালত রুলের জবাব দাখিলের জন্য বিবাদীদের তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।

