চেক ডিজঅনার–সংক্রান্ত মামলার বিচারিক এখতিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে চেকের অঙ্ক অনুযায়ী কোন আদালতে বিচার হবে, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার গেজেট আকারে প্রকাশিত ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের চেকের মামলার বিচার এখন থেকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হবে। আর পাঁচ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক–সংক্রান্ত মামলা সরাসরি যুগ্ম দায়রা জজ পর্যায়ের আদালতে বিচারাধীন হবে।
এই সংশোধনের মাধ্যমে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইনের ১৪১ নম্বর ধারার ক্লজ (সি) পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন বিধান যুক্ত করে স্পষ্ট করা হয়েছে, আইনের ধারা ১৩৮–এর অধীন চেক ডিজঅনারের অপরাধ চেকের ফেস ভ্যালু বা লিখিত মূল্যের ভিত্তিতে পৃথক আদালতে বিচার হবে।
সংশোধিত আইনে উল্লেখ আছে, কোনো চেকের অঙ্ক পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে সেই মামলার বিচার মেট্রোপলিটন যুগ্ম দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের নিচে কোনো আদালতে করা যাবে না। অর্থাৎ বড় অঙ্কের চেকের মামলার বিচার হবে সরাসরি উচ্চতর আদালতে।
অন্যদিকে পাঁচ লাখ টাকা বা তার কম অঙ্কের চেকের ক্ষেত্রে ধারা ১৩৮–এর অপরাধের বিচার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেই সম্পন্ন হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের ফলে চেকের অঙ্কভিত্তিক বিচারিক স্তর নির্ধারণে স্পষ্টতা এসেছে। বড় অঙ্কের আর্থিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উচ্চতর আদালতের এখতিয়ার নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম অঙ্কের মামলাগুলো ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি আসবে। এতে ভোগান্তিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

