Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, মে 3, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ডিরেগুলেশন পরিকল্পনা কি দেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া দেবে?
    অর্থনীতি

    ডিরেগুলেশন পরিকল্পনা কি দেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া দেবে?

    মনিরুজ্জামানUpdated:ফেব্রুয়ারি 19, 2026ফেব্রুয়ারি 18, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    দেশের অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিকীকরণ নিয়ে বিএনপি নতুন করে আলোচনা তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের অভিমত, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্রই যথেষ্ট নয়, অর্থনীতিকেও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি এবং সুবিধাভোগী অর্থনীতি দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সুফল পৌঁছে দিতে পারেনি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল সুবিধা কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

    বিএনপির ধারণা, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত প্রকৃত অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এজন্য পুরনো অর্থনৈতিক ধারা থেকে বের হয়ে একটি নতুন মডেল তৈরি করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কিন্তু তাদের পণ্যের মানোন্নয়ন হয়নি এবং জীবনযাত্রার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়নি। তাই একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক মডেলের প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং তার সুফল পাবেন সকলেই।

    বিএনপি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গণতান্ত্রিক করার পরিকল্পনা করছে। দলের লক্ষ্য, এই খাতে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ ও কাঁচামাল প্রাপ্তি সহজতর করা, কাজের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ডিজাইনিং, ব্র্যান্ডিং ও অনলাইন মার্কেটিং সুবিধা দেওয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে সেভাবে বিনিয়োগ হয়নি; অধিকাংশ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে। এর ফলে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

    বিএনপির ধারণা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে পণ্যের মানোন্নয়ন হলে বাজার চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে শ্রমজীবীদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। উদ্যোক্তাদের ই-বে, আলিবাবা ও অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি সম্ভব হবে। এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, দেশের জিডিপি বাড়াবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

    অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের জন্য ডিজিটালাইজেশনও অপরিহার্য। বিএনপির পরিকল্পনায় দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সেবা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, শক্তিশালী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া। এ সুযোগগুলো তৈরি হলে কল সেন্টার, ডাটা সেন্টার এবং অনলাইন রিয়াল-টাইম বিজনেসের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    উদাহরণ হিসেবে থাইল্যান্ডের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রডাক্ট’ প্রকল্প উল্লেখ করা যায়। সেখানে প্রতিটি গ্রামে একটি পণ্য উৎপাদন করা হয়, সরকার বিনিয়োগ ও ঋণ দিয়ে ব্র্যান্ডিং ও প্রণোদনা নিশ্চিত করে, এবং পণ্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হয়। বিএনপি এই ধরনের মডেল দেশের অর্থনীতিতে চালু করতে চায়, যেখানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দলের চারটি মূলনীতি থাকবে:

    • প্রথমত, ভ্যালু ফর মানি — অর্থাৎ বিনিয়োগের তুলনায় যথাযথ লাভ নিশ্চিত করতে হবে।
    • দ্বিতীয়ত, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট — বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা নিশ্চিত করতে হবে।
    • তৃতীয়ত, বিনিয়োগ থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে হবে। বিএনপির মতে, কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি দিয়ে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ সম্ভব নয়।
    • চতুর্থত, পরিবেশ সংরক্ষণ অগ্রাধিকার থাকবে। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা ও কার্বন নিঃসরণ কমানো বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে। দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও উন্নয়নশীল করতে এই চার নীতি অপরিহার্য।

    বিএনপি মনে করছে, কর্মসংস্থান শুধু শিল্প বা ব্যবসার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বিশ্বে খেলাধুলার অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। ব্রাজিল বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে স্পোর্টস শিল্পে বিনিয়োগ দেশের জিডিপি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তাই দলের পরিকল্পনা, দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্পোর্টস সেন্টার তৈরি করা। এখানে ফুটবল, ক্রিকেট, সুইমিং, শুটিং, আর্চারি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খেলাধুলার বিকাশ হবে। খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত নানা কাজ যেমন প্রশিক্ষক, ইভেন্ট ম্যানেজার, নিরাপত্তা, ক্যান্টিন পরিচালনা ইত্যাদিতেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মানুষ খেলা দেখতে আসার মাধ্যমে অর্থনীতিতে চক্রবৃদ্ধি ঘটবে।

    এছাড়া সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগও দলের অগ্রাধিকার। গ্রাম ও শহরের মঞ্চনাটক, গান, নৃত্য বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যারা প্রতিভাবান, তাদের পেছনে সহযোগিতা করা হবে। লক্ষ্য, দেশের সকল স্তরের মানুষ যেন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে — হোক তারা স্পোর্টসম্যান বা সাংস্কৃতিক কর্মী। এভাবে শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, ডিজিটালাইজেশন, স্পোর্টস এবং সংস্কৃতির সমন্বয় দেশের অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং সত্যিকারের অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

    বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিশাল সুযোগ রয়েছে। বিএনপি জানাচ্ছে, সরকার গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা আছে। দল মনে করছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী না হলে দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব নয়। বিএনপির পূর্ববর্তী শাসনামলে এমপ্লয়মেন্ট কার্ভ সবসময়ই ঊর্ধ্বমুখী ছিল, এবং এবার আরও শক্তিশালীভাবে তা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য তহবিলের উৎস নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। দলের অভিমত, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে সীমিত করেছে। এজন্য পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএনপির মতে, বর্তমান আমরা ফ্রন্টিয়ার মার্কেটে অবস্থান করছি, যেখানে মোট বৈশ্বিক ফান্ড মাত্র ৬–৭ বিলিয়ন ডলার। যদি আমরা ইমার্জিং মার্কেটে প্রবেশ করতে পারি, তবে ফান্ডের পরিমাণ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না। অতীতে বিএনপির সময়ে এটি বজায় ছিল, ফলে ব্যাংকিং সেক্টরে কোনো সমস্যা হয়নি। প্রাইভেট সেক্টরের উন্নয়নও সেই সময়ে শুরু হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গার্মেন্টস সেক্টরের বিকাশ ব্যাক টু ব্যাক এলসি এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার মাধ্যমে হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সুবিধা রফতানিকারীদের জন্যও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে নতুন খাতগুলিও সুবিধা পেতে পারে।

    সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা হলো ডিরেগুলেশন। বাংলাদেশের অতিরিক্ত রেগুলেশন ব্যবসা ও নাগরিকদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিএনপি লক্ষ্য করেছে, সরকারি অফিস বা আদালতে ঘুরতে না হয়, জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। দল জানিয়েছে, জনগণকে শক্তিশালী করার জন্য ডিরেগুলেশন সিরিয়াসভাবে প্রয়োগ করা হবে।

    প্রাক্তন বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দলের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউসি) ব্যবস্থার সময় ব্যবসায়ীরা সমস্যার সম্মুখীন হতেন। তখন ইউসি সরাসরি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বাইরে ব্যবসায়ীদের হাতে দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যবস্থা এখনও কার্যকর রয়েছে এবং সফলভাবে ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্ভব হয়েছে। বিএনপি মনে করে, সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে দিয়ে ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব দিলে তারা আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারবে এবং অর্থনীতি আরও কার্যকর হবে।

    বাংলাদেশের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ ক্রমেই তলানিতে নেমেছে। বিদেশী বিনিয়োগ তো দূরের কথা, দেশী উদ্যোক্তাদের অবস্থাও শোচনীয়। প্রাত্যহিক নানা সমস্যা মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়, আর বাকি সময়ে ব্যবসা করা পর্যন্ত সন্দিহান হওয়া স্বাভাবিক। বিএনপি মনে করছে, এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে হবে এবং এজন্য ডিরেগুলেশন অপরিহার্য।

    ডিরেগুলেশন বলতে বোঝানো হচ্ছে, ব্যবসার জন্য যে সকল অনুমতি প্রয়োজন, সেগুলোকে এক জায়গায় আনা এবং একক ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ মাধ্যমে পরিচালনা করা। এটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র নিয়ে বিভিন্ন অফিসে ঘুরতে হবে না, যা বর্তমানে সময় এবং শ্রমের অপচয় সৃষ্টি করছে। দল মনে করছে, এমন ব্যবস্থা বিশ্বের অন্য কোথাও নেই।

    সরকারি পরিষেবায় ই-গভর্ন্যান্স কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বন্দর ব্যবস্থার সমস্যা, এনবিআর সংস্কার, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকট উল্লেখ করা যায়। বিএনপির পরিকল্পনা, এসব সমস্যা এক ছাদের নিচে আনা হবে। তবে এটি শুধু প্রশাসনিক সমন্বয় নয়; এখানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্পূর্ণ পেশাদার এবং অভিজ্ঞ হতে হবে।

    দলের দৃষ্টিকোণ, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কর্মকর্তা নির্বাচিত হবেন। যেমন, এসইসির চেয়ারম্যান যদি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না রাখেন বা বিশ্ববাজার বোঝেন না, তাহলে ইমার্জিং ফান্ড আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। বিএনপি এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্বচ্ছ, দ্রুত ও কার্যকর পুঁজিবাজার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করতে চায়।

    বিএনপি জাতির কাছে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করেছে। দলের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে উন্নীত করা। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তব পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। কোন খাতে কত কর্মসংস্থান হবে, বিপরীতে কত বিনিয়োগ লাগবে, সরকার থেকে কত আর পুঁজিবাজার থেকে কত অর্থ সংগ্রহ করা যাবে—সবই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    দলের দৃষ্টিকোণ, ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনীতিকে সীমিত করছে। পুঁজিবাজার ছাড়া বিনিয়োগকে চাঙ্গা করা সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে ভারতের জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন ১২৫ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি মাত্র ৫–৬ শতাংশ। এত ক্ষীণ পুঁজিবাজারে দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

    পুঁজিবাজারকে সমৃদ্ধ করলে কেবল বেসরকারি খাত নয়, সরকারও অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। সরকারের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) জন্য নির্ভরশীলতা সীমিত করা সম্ভব হবে। দল প্রশ্ন তুলেছে, কেন সরকারকে ৪ বিলিয়ন ডলারের জন্য আইএমএফের শর্ত পূরণ করতে হবে, যেখানে পুঁজিবাজার থেকে একই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব।

    এছাড়া, পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সরকার শুধুমাত্র অর্থ সংগ্রহই করতে পারবে না; প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশও গড়ে উঠবে। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের বিমানের কথা বলা যায়। এটি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যা বাজারে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাবলম্বী হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কার্যক্রমও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যা দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করবে।

    বিএনপি অর্থনীতির কাঠামো ভিন্নভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। দলের দৃষ্টিকোণ, সরকারের সব খাতে সরাসরি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন নেই। সরকারের দায়িত্ব হবে দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন নিশ্চিত করা। অন্য সকল বিনিয়োগ পুঁজিবাজারের মাধ্যমে করা হবে। এর সুবিধা অনেক—এতে শুধু সরকার নয়, সিটি করপোরেশনগুলোও উপার্জনের নতুন বিকল্প খুঁজতে পারবে। বিশ্বজুড়ে অনেক নগর কর্তৃপক্ষ মিউনিসিপ্যাল বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে, বাংলাদেশেও এই পথ অনুসরণ করা সম্ভব।

    দলের ধারণা, যেখানে বিনিয়োগের ফলে আয় হবে না, চাকরির সুযোগ নেই বা পরিবেশের ক্ষতি হবে, সেখানে বিনিয়োগ টেকসই হতে পারে না। টাকা ছাপিয়ে বা ঋণ নিয়ে কোনো অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। এজন্য মূল ফোকাস দেশের জন্য দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

    বিএনপি কর্মসংস্থানকে কেবল চাকরি হিসেবে দেখে না, বরং আত্মকর্মসংস্থানের ওপরও জোর দিচ্ছে। দেশের যুব সমাজের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রতিটি জেলায় স্কিল সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে শুধু দেশের যুব সমাজ নয়, বিদেশে যারা যায় তারা আরও দক্ষ হয়ে বিদেশে বেতন বাড়াতে পারবে। পণ্যের মান বৃদ্ধি, রফতানির উপযোগিতা এবং বিপণনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাও দলের পরিকল্পনার অংশ। ভবিষ্যতের জন্য এই দিকগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    ইসরায়েল ও নিজেদের সম্পর্কে—পশ্চিমাদের বিভ্রমের বুদবুদটি ফেটে যাচ্ছে

    মে 2, 2026
    অর্থনীতি

    জ্বালানি সংকটে অর্থনীতিতে অস্থিরতার আশঙ্কা

    মে 2, 2026
    অর্থনীতি

    সর্বজনীন নয়, জ্বালানি ভর্তুকি দিতে হবে কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনে

    মে 2, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.