Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, এপ্রিল 7, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বিচারকই যখন অন্যায়ের শিকার—ন্যায় কোথায়?
    আইন আদালত

    বিচারকই যখন অন্যায়ের শিকার—ন্যায় কোথায়?

    মনিরুজ্জামানফেব্রুয়ারি 28, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা মূলত দুই স্তরের: উচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালত। উচ্চ আদালত বলতে সুপ্রিম কোর্ট বোঝায়, যা আবার আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে, দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক বিচার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব মূলত অধস্তন আদালতের।

    অধস্তন আদালতে সর্বনিম্ন পদ হলো সহকারী জজ। এটি বিচার বিভাগের প্রারম্ভিক পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে সহকারী জজদের সিভিল জজ নামে অভিহিত করা হয়। একজন সহকারী জজ পদোন্নতির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা ও সহকারী দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা ও দায়রা জজ পদে উত্তীর্ণ হন।

    গুরুত্বপূর্ণ হলো, দায়রা জজ নামে স্বতন্ত্র কোনো পদ নেই। একজন জেলা জজ যখন দায়রা মামলার বিচার পরিচালনা করেন, তখন তিনি দায়রা জজ নামে পরিচিত হন। একইভাবে, যুগ্ম জেলা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজরা দায়রা মামলা বিচারকালীন সহকারী দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ হিসেবে অভিহিত হন।

    সহকারী জজদের ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা প্রাপ্ত হলে তারা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন। অনুরূপভাবে, একজন যুগ্ম জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজকে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট বা মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রিয়াল ক্ষমতা দেওয়া হয়।

    এর আগে, ১ নভেম্বর ২০০৭ সালের আগে, অধস্তন আদালতের সহকারী জজ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব প্রদান হওয়ার আগে এই দায়িত্ব প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পালন করতেন। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এই কাঠামো বিচার কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও দায়িত্ববিন্যস্ত রাখে, যেখানে প্রতিটি পদ ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত।

    আধুনিক বিশ্বের সব দেশে বিচার বিভাগকে জনগণের শেষ ভরসাস্থল হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, তারা অন্য যেকোনো কর্তৃপক্ষ থেকে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হলেও বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হলে সেই বঞ্চনার অবসান সম্ভব।

    বাংলাদেশে সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত এলএলবি বা এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি এবং প্রতিটি পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ডিগ্রি অর্জন। এর পর জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন আয়োজিত ১২শ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়। উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পদের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় প্রার্থীর যোগ্যতার তুলনায় নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রতি নিয়োগে গড়ে ৫৫ শতাংশের নিচে নম্বর প্রাপ্ত প্রার্থীর নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে।

    ১৯৯৮ সালের পূর্বে সহকারী জজদের নিয়োগ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে হতো। তখনও শিক্ষাগত যোগ্যতা বর্তমানের অনুরূপই ছিল। তবে ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে সামরিক ফরমানের প্রভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়। তখন আইন মন্ত্রণালয় আয়োজিত মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৪৫০ সহকারী জজ নিয়োগ পেয়েছিলেন। বাংলাদেশে সহকারী জজের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বিচার বিভাগের ন্যায্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই গঠিত।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন নাগরিক সুপ্রিম কোর্টে ন্যূনতম ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ অথবা বিচার বিভাগীয় কোনো পদে ১০ বছরের কার্যকাল থাকলে এবং নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা থাকলে, তিনি উচ্চ আদালতের বিচারক পদে নিয়োগের যোগ্যতা অর্জন করেন।

    সংবিধানের এই বিধান পর্যালোচনায় দেখা যায়, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে দুই শ্রেণীর প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সংবিধান উভয় শ্রেণীর থেকে ৫০ শতাংশ হারে নিয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, প্রতিটি নিয়োগে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের তাদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে ২০২৫ সালে প্রণীত অধ্যাদেশ জারির আগে আইনের দ্বারা যোগ্যতা নির্ধারিত না থাকলেও অনুমানযোগ্য ধারা অনুসরণ করা হতো। অধস্তন আদালতের প্রারম্ভিক পদ সহকারী জজ পদে যে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে, এর চেয়ে নিম্নমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা কেউ উচ্চ আদালতে নিযুক্ত হতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সহকারী জজের নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতার চেয়ে কম যোগ্যতা সম্পন্ন বিচারকরা উচ্চ আদালতে কর্মরত রয়েছেন।

    এছাড়া সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের হাইকোর্ট বিভাগকে অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন দেখা দেয়—যে কর্তৃপক্ষ তত্ত্বাবধান করবেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি তাদের অধীনে থাকা বিচারকদের চেয়ে উচ্চতর? যদি একজন সহকারী জজ লক্ষ্য করেন যে, তার চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি তাকে নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে রাখছে, তাহলে সংবিধান ও আইনের আলোকে তিনি এই অন্যায় পরিস্থিতি কার কাছে বিচার চাইবেন—এটাই বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় এটি একটি জটিল দিক, যা যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর চিন্তার সুযোগ তৈরি করে।

    নিকট অতীতে সুনামগঞ্জে কর্মরত মহিউদ্দীন নামে এক সহকারী জজ কুমিল্লা শহরের শ্বশুরালয়ে বেড়াতে গিয়ে পুলিশের হাতে নির্মমভাবে প্রহৃত হয়েছেন। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তিনি নিজেকে বিচারিক পরিচয় দিয়ে অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করেও প্রহার থেকে রেহাই পাননি। তবে ভাগ্যক্রমে তার বিচারিক পরিচয় সম্ভবত গ্রেফতারের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

    মহিউদ্দীনের ঘটনা দেশের সাধারণ জনমনে বিস্ময় ও নিন্দা জাগিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এই ঘটনার পর বাংলাদেশের কোনো জজশিপ থেকে পুলিশ প্রহারের বিরুদ্ধে রেজুলেশন গৃহীত হয়নি। এর আগে ঘটিত অপর এক ঘটনায়, নরসিংদী জেলা জজ আদালতে কর্মরত যুগ্ম জেলা জজ ও সহকারী দায়রা জজ ইমান আলী নিজের কার্যালয়ে যাওয়া পথে আদালত অভ্যন্তরস্থ সড়কে পুলিশ সদস্যদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হন। তিনি পরিচয় দানের পরও লাঞ্ছনা থেকে রেহাই পাননি। এই ঘটনাগুলো অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়, অথচ দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    এখানে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হলো, ২০০৫ সালে ঝালকাঠিতে উগ্রবাদীদের বোমা হামলায় দু’জন সহকারী জজ নিহত হন। তখন সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নিহতদের পরিবার পুনর্বাসনের জন্য তাদের স্ত্রীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে পুলিশের আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঝালকাঠি গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়। দেশের সব জজশিপ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রেজুলেশন গ্রহণ করে, এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

    ঘটনার আগে উচ্চ আদালতের বিচারক ও জেলা জজরা চলাফেরার সময় সার্বক্ষণিক দেহরক্ষীর নিরাপত্তা পাননি। ২০০৫ সালের পর উচ্চ আদালতের বিচারকদের ও জেলা জজদের জন্য গানম্যান নিরাপত্তা প্রদান শুরু হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সহকারী জজদের জন্য এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও কার্যকর নয়। এর ফলেই নিকট অতীতে মহিউদ্দীনসহ সহকারী জজরা প্রহৃত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন, তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

    পরিস্কারভাবে বলা যায়, যদি ২০০৫ সালের মতো যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হতো, তাহলে কুমিল্লার এই ঘটনা ঘটত না। দেশের বিচার ব্যবস্থায় সহকারী জজদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি, নাহলে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনমনের আস্থা ধ্বংসের মুখে পড়বে।

    অধস্তন বিচার বিভাগের প্রারম্ভিক বিচারকদের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস যাচাই করতে গেলে দেখা যায়, পাকিস্তান শাসনামলের শেষভাগে ১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহ জজশিপে কর্মরত সিনিয়র মুন্সেফ মো: বদরুজ্জামানের ঘটনা একটি প্রাসঙ্গিক উদাহরণ।

    তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মুনায়েম খানের ছোট ভাই খোরশেদ খান একটি দেওয়ানি মামলায় বিচারাধীন ছিলেন। রায় প্রদানের আগে প্রতিদিন বদরুজ্জামান সাহেব খোরশেদ খানের বাণিজ্যিক কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাতায়াত করতেন। মামলার রায় প্রদানের আগ পর্যন্ত খোরশেদ খান সদয়ভাবে সালাম দিতে উদগ্রীব থাকলেও, রায় বিপক্ষে যাওয়ার পর তিনি সালামও বন্ধ করে দেন। বিষয়টি গভর্নরের ভাই হওয়া সত্ত্বেও ঘটে এবং তা বদরুজ্জামান সাহেব এবং বিচার বিভাগের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। পরে বদরুজ্জামান সাহেব সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

    এছাড়া, জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি অন্য ঘটনা থেকে জানা যায়, ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনরত এক সহকারী জজ কয়েকশ’ বোতল ফেনসিডিলসহ মাইক্রোবাসে পরিভ্রমণকালে ঢাকা কলেজের সামনে পুলিশের হাতে আটক হন। অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, ওই ম্যাজিস্ট্রেট বিচারিক দায়িত্ব পালনকালে জব্দ করা আসল ফেনসিডিল অপসারণ ও পানিভর্তি বোতল দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছিল। এই বেআইনি কর্মকাণ্ডে তিনি এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতা নিয়েছিলেন।

    চরম আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ম্যাজিস্ট্রেট অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তার আশীর্বাদে চাকরি পান। তবে পুলিশের কাছে বিচারকের পরিচয় প্রদান সত্ত্বেও তারা আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—পুলিশ কি নিজেদের ক্ষেত্রেও একই সঠিকতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছে?

    এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট, যে অধস্তন আদালতের বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং এবং দেশের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সততার গুরুত্ব কত বেশি।

    ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার গুলশানে এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় সংক্রান্ত একটি ঘটনা দেশের বিচার ব্যবস্থা ও পুলিশি শৃঙ্খলার চিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। গোয়েন্দা পুলিশের এক উপপুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ঘটানো এ চাঁদা আদায়ের ঘটনায় অভিযোগ জানিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সাংবাদিকদের মাধ্যমে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া নিম্নপদস্থ সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল মাত্র দু’–তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়, অথচ উপরস্তরের কর্মকর্তা বা গোয়েন্দা উপপুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    এ ঘটনার ফলে স্পষ্ট হয়—অপরাধের গুরুত্ব ও পদমর্যাদা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে পুলিশি শৃঙ্খলা ও বাহিনীর ভাবমর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাব পড়েছে দেশের সৎ, দক্ষ, মেধাবী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ওপরও।

    অন্যদিকে, বিচারকের ভূমিকা সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও মজলুমদের অধিকার রক্ষায় অনন্য। অধস্তন আদালতের প্রারম্ভিক পদ থেকে উচ্চ আদালতের বিচারক—সবাই ন্যায়নিষ্ঠ এবং নীতি-আদর্শের প্রতি অবিচল থাকেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি একজন বিচারক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, তবে রাষ্ট্রকে অবশ্যই ক্ষমতাধর অপরাধীকে বিচারের আওতায় এনে বিচারককে নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানি থেকে রক্ষা করতে হবে।

    তবে বিচারকদের এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আশ্বাস দেয়া যায় যে, ন্যায়বিচার করলে তারা কেবলই মানবসমাজে নয়, পরজগতেও পুরস্কৃত হবেন। তারা মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে বিচার চাইবেন, যিনি কখনো মজলুমদের (নিপীড়িতদের) বিমুখ হন না। বিপদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাদের জীবন সার্থক ও মর্যাদাপূর্ণ হয়। এ বিশ্বাস বিচারকদের বঞ্চনা ও অন্যায়ের প্রতিবিধানে আত্মসন্তুষ্টি এবং নৈতিক সাহস প্রদান করে।

    • লেখক : ইকতেদার আহমেদ: সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আইন আদালত

    আরপিওসহ ৭ অধ্যাদেশ সংসদে পাস

    এপ্রিল 7, 2026
    বাংলাদেশ

    সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

    এপ্রিল 7, 2026
    সম্পাদকীয়

    বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং কেন দিন দিন বাড়ছে?

    এপ্রিল 6, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.