সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য জারি করা চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে হাইকোর্টে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক দু’টি রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত জানতে চেয়েছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পাঠানো চিঠি কেন সংবিধানের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না।
একই সঙ্গে গণভোট অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারা ও তফসিল কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে রুল জারি করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত একটি দলিল, যেখানে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সংস্কার-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর একটি গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষিত ফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান–ই–খোদা রিট দায়ের করেন। এ ছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা প্রশ্নে আরেকটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুবসহ কয়েকজন আইনজীবী। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। রুলের পরবর্তী শুনানির তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

