রাজউকের প্লট গ্রহণ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই আদেশের ফলে তাঁর মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাঁধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে খায়রুল হকের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের আগস্টে অভিযোগ করে যে, বিধি না মেনে রাজউকের একটি প্লট গ্রহণ করেছেন খায়রুল হক। এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা এবং সংস্থাটির সাবেক কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।
এর আগে চলতি মাসের ৪ মার্চ খায়রুল হকের বিরুদ্ধে থাকা আরও কয়েকটি মামলায়ও হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। ওই মামলাগুলোর মধ্যে ছিল জুলাই আন্দোলনের সময় এক যুবদল কর্মী হত্যার অভিযোগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগ।
পুলিশ গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
খায়রুল হকের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার একটিতে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
এছাড়া একই ধরনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায়ও পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে।
সব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ায় তিনি পরে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এসব মামলায় জামিনের বিষয়ে রুল জারি করে এবং পর্যায়ক্রমে জামিনের আদেশ দেয়।

