বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও ভাসমান দোকানে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিশাল নেটওয়ার্ক। বছরের পর বছর ধরে চলা এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ত্রিশ গোডাউন, বেলসপার্ক, হাতেম আলী চৌমাথা, বিবির পুকুরপাড়, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক এবং সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গারপাড়সহ অন্তত ডজনখানেক এলাকায় কয়েকশ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রয়েছে।
ত্রিশ গোডাউনে প্রায় ২০০ ভাসমান দোকানে অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করেন সাবেক এক কাউন্সিলরের স্বজন পরিচয়ে সিনহা ও বাপ্পি। হাতেম আলী চৌমাথা এলাকায় ১২৩টি দোকানে সংযোগ দিয়েছেন ইমন ও সাদ্দাম, যারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেলসপার্কে প্রায় ১৫০ দোকান থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে সালেক ও কুট্টি নামে দুই ব্যক্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি ভাসমান দোকান থেকে মাসে ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এই অর্থের একটি অংশ বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছেও পৌঁছে। কেডিসি এলাকার বাসিন্দা রিপন তালুকদার বলেন, “একটি বৈধ মিটার নিতে যেখানে হোল্ডিং নম্বরসহ নানা কাগজ লাগে, সেখানে স্থাপনা ছাড়া কীভাবে মিটার দেওয়া হয়—এটাই প্রশ্ন।” চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা শামিমের ভাষ্য, “আগে এক দলের লোকজন এই বাণিজ্য চালাত, এখন আরেক দল নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু পদ্ধতি একই রয়ে গেছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে এসব কাজে স্থায়ী কর্মচারীরা নয়, চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা বেশি জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, কীভাবে হোল্ডিং নম্বর ছাড়া মিটার দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে ওজোপাডিকোর আরেক কর্মকর্তা মনুজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে দ্রুত অভিযান চালিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা না নিলে সিটি করপোরেশন নিজেই অভিযান চালাবে।”

