বাংলাদেশ রেলওয়ে। এক বছরের তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ব্যাখ্যা চাওয়ার পথে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অটোমেটিক ওয়াশিং প্ল্যান্ট প্রকল্পে দুর্নীতি:
ঢাকা ও রাজশাহীতে ট্রেন ধোয়ার জন্য স্থাপন করা অটোমেটিক ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্ট প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকার বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর রেলপথ মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ এক বছরের তদন্তে প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত একাধিক ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা পড়ে।
তদন্তে দেখা গেছে, ট্রেনের বাইরের অংশ ও যন্ত্রাংশ পরিষ্কারের জন্য পরিকল্পনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ নকশা বা লে-আউট তৈরি হয়নি। ক্রয় প্রক্রিয়ায়ও প্রকৃত ভ্যারিয়েশন হার ১৬.৩৭ শতাংশ থাকলেও তা কমিয়ে ১২.৩০ শতাংশ দেখানো হয়েছে, যাতে মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন ছাড়া কাজ সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া ডলার বিনিময় হার অস্বচ্ছভাবে প্রণীত হয়; ৭৯.৬৫ টাকার পরিবর্তে বিল পরিশোধ হয় ৮৪.৮৯ টাকায়।
প্রকল্প পরিচালক এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে। ভ্যারিয়েশনের নামে প্রায় ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে, যা সরকারি অর্থের অপচয় ও লুটের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের পরে কমিটি সরাসরি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুপারিশ না করে রেলওয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। রেল কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, এতে প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের আড়াল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাখ্যা চাওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে সময়ের ফাঁদে রাখার চেষ্টা হচ্ছে।
রেলসচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানান, প্রকৃত দুর্নীতিবাজকে চিহ্নিত করতেই তদন্ত কমিটি ব্যাখ্যা চেয়েছে। অপরদিকে, কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ:
তদন্তে আরও দেখা গেছে, প্রকল্প নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব দেখা দিয়েছে। প্রকল্প চালুর পর ওয়াশিং প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলেও তা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রেলপথ মন্ত্রণালয় তদন্তে পাওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণের ভিত্তিতে ছয়টি বিষয়ে রেলওয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া যেত। কাউকে আড়াল করার বিষয়টি এড়িয়ে চলেছি। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা চিহ্নিত হয়নি, তাই এখন কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
সূত্র: খবরের কাগজ

