রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন দুদকের সাবেক কমিশনারসহ ছয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে তাদের তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি পৃথক নোটিশ পাঠিয়ে আগামী ৯ এপ্রিল হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা, সংস্থার উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তলব পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, সাবেক কমিশনার ও দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক, সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের এবং মো. আমিনুল হাসান। সংশ্লিষ্ট মামলায় তাদের সবাই আসামি।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদক এই ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। দুদকের পরিচালক মো. জালাল উদ্দীন আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্বে থাকাকালে তারা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই আন্তর্জাতিক কলের টার্মিনেশন রেট ও রাজস্ব ভাগ কমান।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের অজুহাতে কল রেট ০.০৩ ডলার থেকে কমিয়ে ০.০১৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে সরকারের রাজস্ব অংশ ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে নামানো হয়। বিপরীতে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের অংশ বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা হয়। এসব সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব ভাগ কমানোর কারণে ক্ষতি ৩৮৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, কম রেটে কল আনার কারণে ২ হাজার ৯৪১ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে না আনার কারণে ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি ১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ হাজার ১০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪১৮ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলাদা অনুসন্ধানও চলমান রয়েছে। তিনি ২০২১ সালের ১০ মার্চ দুদকে কমিশনার হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। একই দিনে দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনার আছিয়া খাতুনও পদত্যাগ করেন।

