যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য আমদানির প্রবণতা রোধে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। একই সময়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে বন্দরে মোট রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত রবিবার বিকেলে বন্দরের ১৯ নম্বর শেডে একটি বড় চালান আটক করা হয়। চালানটিতে সিন্থেটিক ফেব্রিক্স ঘোষণা থাকলেও তল্লাশিতে পাওয়া যায় ২৬৮ প্যাকেজ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস। ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য থাকায় জব্দ করা হয় পুরো চালানটি। জব্দকৃত এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
এর আগে একাধিক ঘটনায় একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। ১৪ মার্চ বেকিং পাউডার ঘোষণার আড়ালে প্রায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করা হয়। ৯ মার্চ ঘাসের বীজ ঘোষণায় আনা একটি চালান থেকে উদ্ধার করা হয় পাটের বীজ। এছাড়া ১৮ জানুয়ারি মোটর পার্টসের একটি চালানে প্রায় ৩ টন অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায় বলে কাস্টমস সূত্র জানায়। এ ঘটনায় লাইসেন্স স্থগিত হওয়া চারটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হলো লিংক ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স রয়েল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স করিম অ্যান্ড সন্স এবং হুদা ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল জানান, নজরদারি বাড়ানোর ফলে দ্রুত এসব অনিয়ম শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন সব চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন কাস্টমসের সক্রিয় পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দরগুলোর একটি। ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হয় এই বন্দরের মাধ্যমে, যা জাতীয় রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত।

