রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উত্তরা জোন-১-এ কর্মরত প্রধান ইমারত পরিদর্শক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, ঘুষ বাণিজ্য এবং অবৈধ স্থাপনার নকশা অনুমোদনের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ অনিয়মের চক্র গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র, নথিপত্র এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য বিশ্লেষণে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ লঙ্ঘন করে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেন। পাশাপাশি দাপ্তরিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। নিয়মবহির্ভূত স্থাপনার নকশা অনুমোদন, পরিদর্শন প্রতিবেদনে অনিয়ম এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে মৌখিক ছাড় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা অঞ্চলের থাজীপুর, সারাবো এবং কুনিয়া মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনকে কার্যত একটি অলিখিত শর্তে পরিণত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কুনিয়া মৌজায় একটি অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অনিয়মের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্ল্যান অনুমোদন থেকে শুরু করে পরিদর্শন রিপোর্ট এবং ফাইল নিষ্পত্তির প্রতিটি ধাপেই অনৈতিক অর্থ দাবি করা হয়। নির্ধারিত অর্থ না দিলে ফাইল জটিল করা, দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।
চাকরিজীবনের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, ওমর ফারুক ২০১8 সালে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে রাজউকে যোগদান করেন। একই সময়ে মংলা পোর্ট কর্তৃপক্ষেও চাকরিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি প্রধান ইমারত পরিদর্শক পদে পুনরায় নিয়োগ পান। এই সময়ের মধ্যে দায়িত্বে না থেকেও বেতন-ভাতা প্রাপ্তির দাবিতে রাজউকের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এছাড়া এক পর্যায়ে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হওয়ার অভিযোগে গাজীপুরে বদলি করার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ফ্ল্যাট, প্লটসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওমর ফারুক। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয় এবং এটি একটি ষড়যন্ত্র।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং নগর পরিকল্পনা ও নিরাপদ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

