রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আবারও নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে সংস্থাটির দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা নেমে এসেছে।
গত ৩ মার্চ ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পদত্যাগের পর ৩৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন সার্চ কমিটি গঠন হয়নি। অথচ আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কমিশন না থাকায় বর্তমানে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নতুন মামলা গ্রহণ, চার্জশিট দাখিল, আসামি গ্রেপ্তার কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ক্রোকের মতো কার্যক্রম আর এগোচ্ছে না। ফলে চিহ্নিত অনেক দুর্নীতিবাজ ও অপরাধী এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। একদিকে আইনি জটিলতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—এই দুই কারণে স্বাধীন সংস্থাটি এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।
২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত করে গঠন করা হয় স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটিতে মোট সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি সুলতান হোসেন খান এবং সর্বশেষ কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কমিশন গঠনের ধারাবাহিকতা বারবার ব্যাহত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতটি কমিশনের মধ্যে মাত্র তিনটি তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পেরেছে। বাকি চারটি কমিশনকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে।
সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, মো. বদিউজ্জামান ও ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনগুলো নির্ধারিত সময় পূর্ণ করলেও অন্য কমিশনগুলো রাজনৈতিক বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আগেভাগেই বিদায় নেয়। চলমান পরিস্থিতিতে অনুসন্ধান ও তদন্ত চললেও কমিশন না থাকায় সম্পদ ক্রোক, নতুন মামলা, আসামি গ্রেপ্তার এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, কমিশন না থাকার সুযোগে অনেক চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কার্যত সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন কোনো অনুসন্ধান শুরু করাও সম্ভব হচ্ছে না, ফলে পুরো সংস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান, অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছে মোমেন কমিশন।
তিনি জানান, এই স্বল্প সময়ে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার অভিযোগের বিপরীতে মামলা ও চার্জশিটে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুদকের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার, আগের সরকারের প্রায় সব মন্ত্রী, সাবেক আমলা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিরাও রয়েছেন।
একই সময়ে দেশে ও বিদেশে অর্থপাচারকারী ও ঋণখেলাপিদের প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কমিশন না থাকায় সম্পদ ক্রোক, নতুন মামলা গ্রহণ, আসামি গ্রেপ্তার এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা কিছুটা সুযোগ পাচ্ছে। তার ভাষায়, অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান থাকলেও নতুন কোনো উদ্যোগ শুরু করা যাচ্ছে না। কমিশন না থাকায় দুদকের কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
ইতিহাস যা বলছে?
দুদকের পরিসংখ্যান ও ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছে স্বাধীন এই সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট চারজন চেয়ারম্যান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সুলতান হোসেন খান ও হাসান মশহুদ চৌধুরী (২০০৪-২০০৯):
২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। তবে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পর ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন।
এর মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে ২২ ফেব্রুয়ারি সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একই বছরের ২ এপ্রিল তিনিও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল সাবেক সচিব গোলাম রহমান দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ কমিশন (২০২১-২০২৪):
দীর্ঘ সময় পর ২০২১ সালের ৩ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি পুরো কমিশনসহ পদত্যাগ করেন।
দুদক আইন-২০০৪ অনুযায়ী, কোনো কমিশনারের পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করলেও এখনো নতুন কমিশন গঠনের প্রাথমিক ধাপ ‘সার্চ কমিটি’ও গঠন করা হয়নি।
মোমেন কমিশন (২০২৪-২০২৬):
মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ কমিশনের বিদায়ের প্রায় দেড় মাস পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের নতুন কমিশন গঠন করা হয়। পাঁচ বছরের মেয়াদে নিয়োগ পেলেও মাত্র ১৫ মাসের মাথায় আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন তাদের কার্যক্রম থামিয়ে দেয়।
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ার পর ৩ মার্চ চেয়ারম্যান ড. মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন।
মোমেন কমিশনের পদত্যাগের পর ইতোমধ্যে ৩৮ দিন পার হয়ে গেলেও নতুন কমিশন গঠনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দুদক আইন-২০০৪ অনুযায়ী, কোনো কমিশনারের পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হয়েছে। এখনো নতুন কমিশন গঠনের প্রাথমিক ধাপ ‘সার্চ কমিটি’ও গঠন করা হয়নি, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দুদক সূত্র বলছে, সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতাই এই বিলম্বের মূল কারণ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ সরাসরি সংসদে অনুমোদনের পরিবর্তে বিকল্প পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে দুদকের ভবিষ্যৎ কাঠামো। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া থমকে আছে, যা চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
দুদক আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধান, মামলা, গ্রেপ্তার, সম্পদ ক্রোক, অবরুদ্ধকরণ এবং বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ সব নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল কমিশনের হাতে থাকে। ফলে বর্তমান ‘অভিভাবকহীন’ অবস্থায় সংস্থাটির সব ধরনের অভিযান ও আইনি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই কমিশন-শূন্যতা দুর্নীতিবিরোধী দেশের একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যত অচল অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা:
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদক সংস্কার কমিশনের সব সুপারিশ বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে ‘জুলাই সনদে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, জুলাই সনদের পাশাপাশি দুদক সংস্কার কমিশনের যেসব প্রস্তাবে বিএনপি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে লিখিত সমর্থন জানিয়েছে, সেগুলোর আলোকে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটি দ্রুত সংশোধন করে অবিলম্বে সংসদে আইন হিসেবে অনুমোদন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দুদকের পূর্ণ স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি ‘স্বাধীন বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের সুপারিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে একমত হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে এই বিধানটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে টিআইবি।
অন্যদিকে, দুদকের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক জেলা জজ মো. মঈদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকে কমিশন না থাকা মানে কার্যত প্রতিষ্ঠানটিকে অচল করে রাখা। তাঁর ভাষায়, কমিশন না থাকলে দুর্নীতি দমনের পুরো কাঠামোই থেমে যায়।
তিনি বলেন, অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে অনুসন্ধান, মামলা, তদন্ত ও চার্জশিট অনুমোদন—সব ক্ষেত্রেই কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। এমনকি সম্পদ ক্রোক, ফ্রিজ এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো জরুরি সিদ্ধান্তও কমিশন ছাড়া নেওয়া সম্ভব নয়।
দুদক অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা বাতিল হলেও পূর্ববর্তী বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসে না। বরং নতুন আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশোধিত বিধানই কার্যকর থাকে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের করা সংশোধনগুলো অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। এখন মূল বিষয় হলো, সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়।
২০২৫ সালে সর্বোচ্চ মামলা ও চার্জশিট, এখন স্থবিরতা:
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে ৪৩৯টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেওয়া হয়। একই সময়ে ২২৭টি অভিযোগের পরিসমাপ্তি বা নথিভুক্তি করা হয়।
এই সময়ের মধ্যে ৩২৮টি মামলা এবং ৩৪৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করে দুদক। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওই বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে সর্বাধিক ১০০ ও ৭৩টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কমিশনের পদত্যাগের কারণে ২০২৪ সালের নভেম্বরে কোনো অনুসন্ধান, মামলা বা চার্জশিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ওই সময় দুদকের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুদকে জমা পড়ে ১৩ হাজার ৮৭৭টি অভিযোগ। এর মধ্যে আমলযোগ্য ২ হাজার ৫৩৬টি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় মোমেন কমিশন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ৫৯৪টি মামলা এবং ৪১৩টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। একই সময়ে ৪৩২ জনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়।
এছাড়া ২০২৫ সালে দুদকের ৩৭০টি আবেদনের বিপরীতে আদালত অবৈধভাবে অর্জিত এবং বিদেশে পাচার হওয়া ২৯ হাজার ৩১০ কোটি ১২ লাখ ৭ হাজার ১৫৩ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের আদেশ দেন। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৭৯টি অভিযোগ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ১২৩টি মামলা এবং ৫৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এসব মামলায় ৯১৩ জন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি আসামি হন।
একই সময়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের ৮৯টি সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়। তবে ৩ মার্চ মোমেন কমিশনের পদত্যাগের পর থেকে মামলা, চার্জশিটসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইনগত সিদ্ধান্ত বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে দুদকের মামলা ও চার্জশিট সংক্রান্ত কার্যক্রম কার্যত ‘শূন্য’ অবস্থায় রয়েছে।
দুদকের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি ‘স্বাধীন বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের সুপারিশ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে একমত হওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত পর্যায়ে এই বিধানটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
—টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান
কমিশন নিয়োগ নিয়ে আইনে যা বলা হয়েছে:
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন-২০০৪-এর ১০ ও ১১ ধারায় চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের পদত্যাগ, অপসারণ এবং সাময়িক শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনের ১০(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কমিশনার রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের লিখিত নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারবেন। তবে চেয়ারম্যান ব্যতীত অন্য কোনো কমিশনার পদত্যাগ করলে ওই নোটিশের একটি অনুলিপি চেয়ারম্যানের কাছেও অবগতির জন্য পাঠাতে হবে।
১০(২) উপধারায় আরও বলা হয়েছে, পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অনুরোধ করতে পারবেন। অন্যদিকে, অপসারণ সংক্রান্ত ১০(৩) উপধারায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক যেভাবে এবং যেসব কারণে অপসারিত হতে পারেন, একই ধরনের কারণ ও প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে না।
চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে সাময়িক শূন্যতা পূরণ নিয়ে ১১ ধারায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো কমিশনার মৃত্যুবরণ করলে, পদত্যাগ করলে বা অপসারিত হলে সেই পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যক্তিকে নতুনভাবে নিয়োগ দেবেন।
|
রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বা সমপর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি সার্চ কমিটি গঠন করে থাকে। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা করা।
সার্চ কমিটি সংশ্লিষ্ট পদগুলোর জন্য যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে একটি পদের বিপরীতে সাধারণত দুজন করে নামের তালিকা তৈরি করে। এরপর সেই তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়।রাষ্ট্রপতি উক্ত তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই শেষে একজনকে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ দেন।

