সাবেক বিচারক ও পরিচিত এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে আইন অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি করসংক্রান্ত মামলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি এক মক্কেলের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারে পড়বে বলে জানান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর আপিল মামলার দায়িত্ব নেন। মামলার নিষ্পত্তিতে করের দায় শূন্যে নামিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে তাকে প্রায় ১ কোটি টাকা দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ গ্রহণের পরও মামলার অগ্রগতি নিয়ে কোনো কার্যকর তদারকি করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত আপডেটও দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে অন্য একজন আইনজীবীর মাধ্যমে জানা যায়, মামলায় উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানাসহ রায় হয়েছে, যা আগে জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ লিখিতভাবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ জমা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রহণ করা অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরতের দাবিও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমে জেনেছেন। একজন মক্কেলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি আওতাধীন নয় বলে জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, অভিযোগটি যদি বার কাউন্সিল বা সংশ্লিষ্ট পেশাগত সংস্থায় যায়, তাহলে তারা আইনজীবীর সনদ ও পেশাগত আচরণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে অভিযোগে যদি আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি বা কর সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা খতিয়ে দেখবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আইনজীবী অতীতে বিচার বিভাগ পৃথককরণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি ঐতিহাসিক মামলার মাধ্যমে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযোগ তার পেশাগত অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

