চট্টগ্রামে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ আকস্মিকভাবে তাদের ছয়টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই সিদ্ধান্তের নোটিশ কারখানাগুলোর গেটে টানিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে অসংখ্য শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।
এস আলম গ্রুপের মানবসম্পদ ও প্রশাসনের প্রধান মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের সই করা নোটিশে জানানো হয়, “কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে অনিবার্য কারণে আগামীকাল বুধবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে। তবে কারখানার নিরাপত্তা, সরবরাহ এবং জরুরি বিভাগ চালু থাকবে।”
কাঁচামাল সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গ্রুপটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কালারপুল এলাকার এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের গেটে দেখা যায়, শতাধিক শ্রমিক বিক্ষোভ করছেন। আকস্মিক কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এক শ্রমিক বলেন, “পরিবার নিয়ে বাঁচব কীভাবে? এই সিদ্ধান্তে আমরা বিপদে পড়েছি।”
এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের উৎপাদন ব্যবস্থাপক নাজিম উদ্দীন এই ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সবকিছু স্বাভাবিক চললেও হঠাৎ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হলো। কারণ আমাদের জানানো হয়নি।”
এস আলম গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যাংক থেকে নতুন করে আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ায় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বন্ধ ঘোষিত কারখানাগুলো হলো—
- এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ
- এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড
- এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড
- এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড–নফ
- এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড
- ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
এই কারখানাগুলোতে প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে দুটি কারখানা কর্ণফুলী উপজেলার কালারপুলে, তিনটি ইছানগরে এবং একটি বাঁশখালীতে অবস্থিত।
এস আলম গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপক আশীষ কুমার নাথ বলেন, “কাঁচামাল সংকটের কারণে কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত দেওয়া হবে।”
কারখানা বন্ধের বিষয়ে জানতে এস আলম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার ভৌমিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এস আলম গ্রুপের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা ও দেশের শিল্পখাতের অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কাঁচামাল সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই সংকট কাটানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

