উড়োজাহাজে সোনা চোরাচালানের ঘটনা থামছে না। একের পর এক অভিযানে উড়োজাহাজের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা অবৈধ সোনা উদ্ধার হচ্ছে। অথচ দেড় মাস আগেই এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক করা হয়েছিল চোরাচালান প্রতিরোধে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে সেই সতর্কবার্তার পরও চোরাচালানের ঘটনা থেমে নেই। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের সিটের নিচ থেকে ২০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো বিশেষ কায়দায় লুকানো ছিল।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চোরাচালানের উদ্দেশ্যে উড়োজাহাজের বিভিন্ন স্থান যেমন সিটের নিচ, বাথরুম, পাইপের ভেতর, কেটারিং এরিয়া বা লাগেজ সংরক্ষণস্থল ব্যবহার করা হয়। এমন কার্যক্রমে এয়ারলাইনস কর্মীদের সহযোগিতা থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চিঠিতে এ বিষয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, “আমরা আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরও চোরাচালানের ঘটনা ঘটায় এবার একটি দুবাইফেরত উড়োজাহাজ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ ধরনের অপরাধ এয়ারলাইনস কর্মীদের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়। আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এয়ারলাইনসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিও পর্যালোচনা করা হবে।
চোরাচালান রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও অপরাধীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। ফলে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ ও শুল্ক গোয়েন্দার আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

