ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অন্তত চার হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার কমিশনের এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন সংস্থার মহাপরিচালক মো. আকতার হোসেন।
তিনি জানিয়েছেন, প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, অনিয়ম এবং প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ হলো প্রাক্কলিত ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা। সরঞ্জামাদি স্থানীয়ভাবে ক্রয় করে বিদেশ থেকে আমদানির মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ। সয়েল টেস্ট ও নকশায় অনিয়ম করে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্পের তিনটি বড় কাজ অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতানো।
এছাড়া দরপত্রে ইউরোপীয় মানের সরঞ্জামাদির উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও চীন ও কোরিয়ার নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিলিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়মের পাশাপাশি অযৌক্তিক কিছু কাজ করে ১২ কোটি টাকার অপচয়ও ধরা পড়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
২০১৭ সালে শেখ হাসিনা সরকারের উদ্যোগে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ হিসেবে প্রদান করে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থের যোগান দেয় বাংলাদেশ সরকার। নির্মাণের দায়িত্বে ছিল জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে থার্ড টার্মিনালের একটি অংশ উদ্বোধন করেন ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে, উদ্বোধনের আগেই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে।
দুদকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্পের এসব অভিযোগ তফসিলভুক্ত হওয়ায় কমিশন তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহে কাজ চলছে।
এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে ধরা হলেও বারবার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। পাঠক ও নাগরিক সমাজের নজর এখন দুদকের তদন্তের ফলাফলের দিকে।

