সোমবার বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক ও অপারেশনাল হেড বরাবর বন্ধ ঘোষণা করা এস আলম গ্রুপের ৮ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করতে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিএফআইইউকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস ও অন্যান্য দেশে ১ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান করছে দুদক।
চিঠিতে ব্যাংক হিসাব অবরোধ করতে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, এস আলম গ্রুপভুক্ত বর্ণিত আটটি প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত হিসাবগুলোতে বিদ্যমান অর্থ যেকোনো সময় স্থানান্তর করা হতে পারে। সেজন্য ওই আটটি প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে পরিচালিত হিসাবগুলো ফ্রিজ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের আটটি প্রতিষ্ঠান হলো এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এম আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল ও এস আলম ব্যাগ লিমিটেড।
ক্ষমতার পালা পরিবর্তনের পর গত ২১ আগস্ট এস আলমের অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এর পরই সম্প্রতি ওই আটটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিল্প গ্রুপটির পক্ষ থেকে।
এস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ শিল্প গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখল করে নেয়। তারপর ব্যাংকটি থেকে এস আলম গ্র“প ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়। ইসলামী ব্যাংক ছাড়া আরও কয়েকটি ব্যাংক দখল করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ টাকা বের করে নেওয়ার অভিযোগ আছে গ্রুপটির বিরুদ্ধে।
দুদক সূত্র জানায়, এস আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তকালে অভিযোগসংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হবে।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের আটটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্ধ হওয়া আটটি কারখানায় কমপক্ষে ১২ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনতা ব্যাংকের সাধারণ বিমা ভবন করপোরেট শাখার দেওয়া মোট ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি নিয়েছে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ১০ হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটিতে বন্ধক আছে মাত্র দুই হাজার ৭৪৯ কোটি টাকার জমি ও স্থাপনা। অর্থাৎ এসব জমি ও স্থাপনা বিক্রি করেও টাকা তুলতে পারবে না জনতা ব্যাংক। এস আলম গ্রুপ ২০০৪ সাল থেকে জনতা ব্যাংকের গ্রাহক বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২ হাজার ৯৭১ শতাংশ জমি নিলামে তুলেছে জনতা ব্যাংক : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ঋণ পরিশোধ না করায় অবশেষে এস আলমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি নিলামে তুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। সোমবার একটি জাতীয় দৈনিকে এ নিয়ে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি।
জনতা ব্যাংক চট্টগ্রামের সাধারণ বিমা করপোরেশন শাখার পাওনা এক হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। বকেয়া আদায়ে ব্যাংকটিতে বন্ধক রাখা দুই হাজার ৯৭১ শতাংশ জমি নিলামে তোলা হয়েছে। এর আগে একই ব্যাংক এস আলমের মালিকানাধীন গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের কাছে পাওনা এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকা আদায়ের জন্য এক হাজার ৮৬০ শতক জমি নিলামে তুলেছিল।

