যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ (ইউএসডিওটি) ঘন ঘন ফ্লাইট বিলম্বের কারণে জেটব্লু এয়ারওয়েজকে ২০ লাখ ডলার জরিমানা করেছে। শুক্রবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই প্রথমবার কোনো এয়ারলাইনকে এমন অপরাধে জরিমানার মুখোমুখি হতে হলো।
জানা গেছে, এই জরিমানার একটি অংশ হিসেবে জেটব্লুকে ১০ লাখ ডলার সরাসরি অর্থ হিসেবে প্রদান করতে হবে। বাকি অর্থ ব্যবহার করা হবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পাশাপাশি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী এক বছরের মধ্যে তিন ঘণ্টা বা তার বেশি বিলম্বিত কিংবা বাতিল হওয়া প্রতিটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ন্যূনতম ৭৫ ডলারের ভাউচার প্রদান করতে বাধ্য থাকবে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে জেটব্লু নিয়মিতভাবে নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরি করে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক থেকে র্যালি-ডারহাম, ফোর্ট লডারডেল, অরল্যান্ডো এবং ফোর্ট লডারডেল থেকে উইন্ডসর লক্স, কানেকটিকাটগামী ফ্লাইটগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত হয়েছে।
ইউএসডিওটি আরও জানায়, এসব রুটে জেটব্লুর চারটি ফ্লাইটে মোট ৩৯৫টি বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড় হিসেবে, এসব ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের ৫০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে ৩০ মিনিট বা তার বেশি দেরিতে পৌঁছেছে বা বাতিল হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কোনো দায় স্বীকার না করলেও, মামলা-মোকদ্দমার খরচ ও অনিশ্চয়তা এড়াতে এই জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানে রাজি হয়েছে জেটব্লু কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ আশা করছে, জেটব্লুর এই জরিমানা ভবিষ্যতে এয়ারলাইনস শিল্পে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে একটি কার্যকর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ক্রমাগত বিলম্ব প্রতিরোধে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো এয়ারলাইনসগুলোকে আরো দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যাত্রীসেবার প্রতি জেটব্লুর এই নতুন পদক্ষেপ শুধু তাদের ব্র্যান্ড ইমেজ পুনরুদ্ধারেই নয় বরং পুরো এয়ারলাইনস শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

