আইএফআইসি ব্যাংক শেখ মুজিব শাখায় আওয়ামী লীগের সীতাকুণ্ড আসনে সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আল মামুন ও তার পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসআরএস শিপ ব্রেকার্সের ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮২২ টাকা ঋণখেলাপি।
আইএফআইস ব্যাংক পিএলসি সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সীতাকুণ্ড আসনে সাবেক এমপি আবুল কাশেমের সন্তান সদ্যবিদায়ী ও পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আল মামুন ও তার পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসআরএস শিপ ব্রেকার্স খেলাপি আইএফআইসি ব্যাংক শেখ মুজিব শাখায়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের জাহাজ কাটার ব্যবসা পরিচালনার জন্য আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি শেখ মুজিব রোড শাখা থেকে ঋণ সুবিধা নেয়। কিন্তু গত এক বছর যাবৎ ব্যাংকের ঋণ নিয়মিত পরিশোধে ব্যর্থ হোন।
গত ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এসআরএস শিপ ব্রেকার্সের কাছে ব্যাংকের খেলাপি পাওনার পরিমাণ ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮২২ টাকা। আর এ ঋণের বিপরীতে সীতাকুণ্ডে লতিফপুর, ভাটিয়ারি ও সোনাইছড়ি মৌজায় ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি বন্ধকিতে আছে। এসব খেলাপি পাওনা আদায়ে নিলামে বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সীতাকুণ্ড আসনে সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আল মামুন ও তার পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসআরএস শিপ ব্রেকার্স কুমিরার উত্তর ঘোড়ামারায় অবস্থিত। গত ৫ আগস্টের পর এসএম আল মামুনসহ পুরো পরিবার পলাতক অবস্থায় আছে। এর পর থেকে কারখানাও বন্ধ আছে।
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির একাধিক কর্মকর্তারা জানান, গত ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এসআরএস শিপ ব্রেকার্সের কাছে ব্যাংকের খেলাপি পাওনার পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। আর এ ঋণের পাওনা আদায়ে চেক প্রত্যাখ্যানের মামলাও করা হয়েছে, যা চলমান আছে। এছাড়া ঋণের বিপরীতে সীতাকুণ্ডে লতিফপুর, ভাটিয়ারি ও সোনাইছড়ি মৌজায় ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি বন্ধকিতে আছে। এ খেলাপি পাওনা আদায়ে নিলামে বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট শাখায় নিলাম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহরের করপোরেট অফিসও বন্ধ আছে। ফলে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি। অপরদিকে কয়েকজন জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড মালিকরা বলেন, এসআরএস শিপ ব্রেকার্সের। জাহাজ ভাঙার ব্যবসা বন্ধ আছে। তবে জাহাজ ভাঙার নামে ব্যাংক থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিল, যা দিয়ে পরে কক্সবাজারের হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন।
আল মামুনের তিনটি নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আল মামুন ২০১৪ উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি হন। সেবার তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেন, তার নামে কোনো বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবন নেই। একই তথ্য তিনি ২০১৯ সালের ১৫ মার্চের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময়ও ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হফলনামা তিনি উল্লেখ করেছেন, তার নামে তিন কোটি ২৯ লাখ টাকার ভবন আছে।
আর ২০১৪ সালে মামুনের বন্ড শেয়ার, ঋণপত্র ও কোম্পানির শেয়ার দেখিয়েছেন ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, যা তিনি ২০১৯ সালেও একই রেখেছেন। ২০১৪ সালে স্থাবর ও অস্থাবর মিলে মোট সম্পদ ছিল এক কোটি ৮৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫০ টাকার। আর ওই বছর ব্যক্তিগত ও ব্যাংক লোন মিলে ঋণ দেখিয়েছেন ৯ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে আয় দেখান ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ৪০৬ হাজার। তিনি ও তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পত্তি দেখান পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ২২ হাজার টাকার। তবে ২০২৪ সালে তার সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকগুণ। এতে তার নামে আয় আছে এক কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার। আর অস্থাবর সম্পত্তি আছে ছয় কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ২১২ টাকা।

