গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খোলা বাজারের তুলনায় সরকারি দামে ধান বিক্রির অপ্রতুলতা, অটো রাইস মিলের প্রভাব এবং খাদ্যগুদামে অনিয়মের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে হাসকিং চাতাল ব্যবসায়ীরা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন।
চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের জন্য একটি অটো রাইস মিল এবং ৩৫টি হাসকিং চাতালের সঙ্গে খাদ্যগুদামের চুক্তি হয়। তবে ৫২ দিনেও এক কেজি ধান সংগ্রহ হয়নি। অথচ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ২৩ টনের বিপরীতে ২৭০ টন সংগ্রহ করা হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত ধানের প্রতি কেজি দাম ৩৩ টাকা, যা খোলা বাজারের তুলনায় ২ থেকে ৪ টাকা কম। ফলে সাধারণ কৃষক এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা সরকারকে ধান সরবরাহ করতে আগ্রহী নন। এ বিষয়ে উপজেলা চাতাল মালিক সমিতির সভাপতি শাহাদৎ হোসেন আনন্দ বলেন, “অটো রাইস মিলের মালিকদের বরাদ্দ দেওয়ায় হাসকিং চাতালের ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি বঞ্চিত। ব্যাংক ঋণের চাপে অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছেন।”
তারাপুর ইউনিয়নের এক চাতাল মালিক শামসুল হকের অভিযোগ, “সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অটো রাইস মিল মালিকরা বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে আমরা বরাদ্দ পাচ্ছি না। এমনকি সরকারি রেট খোলা বাজারের তুলনায় কম হওয়ায় ধান সংগ্রহই সম্ভব হচ্ছে না।”
এদিকে সুন্দরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার আব্দুল হাদী জানান, চাতাল মালিকরা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যাংক ঋণ ফেরত দেওয়া অনেকে বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে তাদের আইনি নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাবিবুর রহমান জানান, “সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কথা বললেও, কৃষকরা খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহে অনীহা দেখাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অটো মিলের মাধ্যমে ধান-চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া, উপজেলার ১২০টি চাতালের মধ্যে ৮৫টি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।”
চাতাল মালিকদের অভিযোগ, খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারা অটো রাইস মিল মালিকদের সঙ্গে মিলে বরাদ্দ বণ্টনে অনিয়ম করছেন। এতে হাসকিং চাতাল ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, ধান ও চালের বিল পরিশোধে নানা হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
এ সংকট নিরসনে সুষ্ঠু নীতি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। খাদ্যগুদামের অনিয়ম দূর করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার তাগিদ উঠছে প্রতিটি মহল থেকে।

