ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিএস-৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বহুদিন ধরে কারসাজির অভিযোগে বিতর্কিত কোম্পানি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। এই অন্তর্ভুক্তির বিপরীতে বাদ পড়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক ও সামিট পাওয়ারের মতো মজবুত মৌলভিত্তির কোম্পানি। ডিএসইর পক্ষ থেকে অর্ধবার্ষিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে সূচকটি সমন্বয় করা হয়েছে।
কয়েক বছর ধরে বাজারে অচল থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা সামনে এসেছে। ১২ টাকার শেয়ারের দাম কারসাজির মাধ্যমে বাড়িয়ে ২৩২ টাকা পর্যন্ত তোলা হয়। বর্তমানে শেয়ারটির দাম দাঁড়িয়েছে ১৭৭ টাকায়।
ডিএসই জানায়, ডিএস-৩০ সূচক থেকে মোট ৯টি কোম্পানি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে সমান সংখ্যক কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডিএসইর সূচক সমন্বয় প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি ডাও জোনসের পদ্ধতি মেনে পরিচালিত হয়। এর আওতায় কোনো কোম্পানির বাজার মূলধন ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা এবং তিন মাসের গড় দৈনিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা থাকতে হবে। বিদ্যমান কোম্পানির ক্ষেত্রে দৈনিক লেনদেনের শর্ত ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।
নতুন অন্তর্ভুক্ত ৯টি কোম্পানি হলো: ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাইম ব্যাংক, কোহিনূর কেমিক্যালস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, মবিল-যমুনা বাংলাদেশ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, পদ্মা অয়েল, আইডিএলসি ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস। বাদ পড়া ৯টি কোম্পানি হলো: হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, সিপার্ল বিচ রিসোর্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জেনেক্স ইনফোসিস, ইসলামী ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, লিনডে বাংলাদেশ এবং সামিট পাওয়ার।
প্রধান সূচক ডিএসইএক্সেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ডাও জোনসের পদ্ধতি মেনে ২০২৪ সালের বার্ষিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন করে ৮৭টি কোম্পানি সূচকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, বাদ পড়েছে ১৪টি কোম্পানি।
নতুন অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে: এসিআই, ব্যাংক এশিয়া, বিডি ল্যাম্পস, ক্রাউন সিমেন্ট, ঢাকা ব্যাংক, এনভয় টেক্সটাইলস, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, আরএকে সিরামিকস, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, তিতাস গ্যাস, স্কয়ার টেক্সটাইলস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইউনাইটেড পাওয়ার।
বাদ পড়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আরামিট সিমেন্ট, বিডি ওয়েল্ডিং, এফএএস ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং রতনপুর স্টিল।
২০২৩ সালে বাজারে ফ্লোর প্রাইসের কারণে অনেক কোম্পানির স্বাভাবিক লেনদেন বন্ধ ছিল, যার ফলে ২০২৪ সালের সূচক সমন্বয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন ডিএসইএক্স সূচকে ৩২৬টি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে ডিএসইএক্স এবং ডিএস-৩০ সূচক অনুযায়ী লেনদেন কার্যকর হবে।

