দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও দুই পরিচালকদের বিরুদ্ধে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী, সাবেক পরিচালক সরোয়ার জামান চৌধুরী এবং সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন ফরাছত আলী। সেই সুবাদে ব্যাংকটির অনুমোদন পান তার নেতৃত্বে কিছু ব্যবসায়ী। প্রবাসীদের উদ্যোগে গঠিত নতুন এ ব্যাংকে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ায় ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সে সময় ফরাছত আলীকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
পরিচালকদের স্বাক্ষর জাল করে ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মিথ্যা তথ্য প্রদানসহ বেশ কিছু অভিযোগের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২০ সালে তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যেমে পরবর্তী দুই বছর তিনি কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদের জন্য নিষিদ্ধ হন তিনি।
গত ১৯ জানুয়ারি এ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে দুদক। এতে বলা হয়েছে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী, সাবেক পরিচালক সরোয়ার জামান চৌধুরী, সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ এনায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, হুন্ডির ব্যবসা, ঋণ প্রদানে অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রয়োজন।
দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে দুদকের উপপরিচালক আফরোজা হক খানকে। কমিটির কাছে আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাধিক তথ্য প্রদানের জন্য বলা হয়েছে ব্যাংকটিকে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভার রেজুলেশন ও হাজিরা শিটের সত্যায়িত কপি।
এছাড়া এজি অ্যাগ্রো, বেগমগঞ্জ ফিড মিলস, স্টাইলিশ গার্মেন্টস, ব্যাংকের উত্তরা শাখার গ্রাহক আজিজসহ আরও দুজনের নামে গৃত ঋণের নথি বিস্তারিত চাওয়া হয়েছে। ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান কর্মস্থলসহ বিস্তারিত চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংকের মোট মূলধনের পরিমাণ এবং পাঁচজন বড় ঋণগ্রহীতার ঋণের বিবরণ প্রদানের জন্য বলা হয়েছে।

