শেয়ারবাজারে এক মাসের ব্যবধানে বন্ধ কোম্পানি খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের শেয়ারের মূল্য তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি জানুয়ারিতে কোম্পানিটি দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। গত সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য প্রায় ৪ টাকা বা ২৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ টাকায়।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর খুলনা প্রিন্টিংয়ের শেয়ারের মূল্য ছিল মাত্র ৭ টাকা ৯০ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে এই মূল্য বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। অথচ কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এবং ২০২০ সালের পর থেকে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২০ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি মাত্র ২৫ পয়সা নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে।
বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় খুলনা প্রিন্টিংকে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এই অবস্থায়ও শেয়ারটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাজার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি কারসাজিকারক চক্র কৃত্রিমভাবে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বাজারে প্রভাব সৃষ্টি করছে। বন্ধ ও দুর্বল একটি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া এত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে শেয়ারবাজার কিছুটা মন্দাভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং লেনদেনেও গতি কম। এই পরিস্থিতিতে কারসাজিকারকরা স্বল্প ও মাঝারি মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে কাজ করে থাকে। অল্প বিনিয়োগেই এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার মূল্য বাড়ানো সম্ভব। যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্ধ ও দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি প্রয়োজন। তা না হলে কারসাজির কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ২০১৪ সালের আগস্টে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৭৩ কোটি টাকা। যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৭ কোটি ৩০ লাখ শেয়ারে বিভক্ত। ডিএসইর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৪০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে এবং বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।
শেয়ারবাজারে এই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয় বরং বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই প্রয়োজনীয় তদারকি ও পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাজারকে নিরাপদ রাখা জরুরি।

