কুমিল্লার তিতাস উপজেলার উলুকান্দি থেকে কালাইগোবিন্দপুর সড়কটি সংস্কারের অভাবে চার গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও সড়কটির পাকাকরণ কাজ শুরু হয়নি। ফলে গ্রামবাসীদের বিকল্প পথে প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে বাতাকান্দি বাজারে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাছিমপুর-আসমানিয়া সড়কের বাতাকান্দি বাজার থেকে উলুকান্দি দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরা। এখানে প্রায় ১২০০ মিটার সড়কের জন্য বক্স কাটার কাজ শেষ হলেও বালু ফেলার মতো প্রাথমিক কাজও সম্পন্ন হয়নি। বৃষ্টির পানিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জমে থাকা পানিতে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইটের স্তূপ থাকায় যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্যমতে, বলরামপুর ইউনিয়নের উলুকান্দি থেকে কালাইগোবিন্দপুর পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮১৪ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পায় কুমিল্লার মেসার্স জিরু ইনফিনিটিভ কোম্পানি। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যার মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কের কাজ আর এগোয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক সংস্কারের অভাবে তাদের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। উলুকান্দি গ্রামের হযরত আলী ও রাসেল আহমেদ বলেন, “গাজীপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে বাতাকান্দি বাজারে যেতে হয়, যা অতিরিক্ত সময় ও খরচ বাড়াচ্ছে।” শ্রীনারায়ণকান্দি গ্রামের প্রবাসফেরত আব্দুল লতিফ বলেন, “বাজারে ভালো মানের ক্লিনিক ও ডাক্তার থাকা সত্ত্বেও সড়ক বন্ধ থাকায় রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মালপত্র পরিবহনেও খরচ বেড়ে গেছে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম শুভ জানিয়েছেন, “ফান্ডের অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত তহবিল ছাড়ের আশা করছি। তহবিল পেলে কাজ শুরু হবে।”
উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, “ঠিকাদার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। শিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদারকে অবশ্যই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। শুরুর দিকে ফান্ডের সমস্যা ছিল, তবে এখন কোনো সমস্যা নেই।”
এদিকে, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

